নজরবন্দি ব্যুরো: ফুটবল বিশ্বে কিংবদন্তির অভাব নেই। তবে আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে? প্রথমেই উঠে আসবে দুটিই নাম ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে এবং আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো মারাডোনা। দুজনের মধ্যে কে সেরা তা নিয়ে বিতর্ক লেগেই রয়েছে।
পেলে-মারাডোনার পর ফুটবল বিশ্ব যখন আর এক কিংবদন্তির জন্য অপেক্ষা করছিল ঠিক তখনই ফুটবলের ইতিহাসে আবির্ভাব হয় এক ‘পারফেক্ট ম্যাজিশিয়ানের’- জিনেদিন ইয়াজিদ জিদান। টানা ১৫টি আসর কেটে গেলেও বিশ্বকাপের স্বাদ পাচ্ছিল না ফরাসিরা। অবশেষে সেই স্বপ্নপূরণ হয় ১৯৯৮ সালে।

আর এই জয়ের নেপথ্যে যার ভূমিকা অপরিসীম, তিনি আর কেউ নন, ‘পারফেক্ট ম্যাজিশিয়ান’ জিদান। ১৯৭২ সালের ২৩ জুন ফ্রান্সের মার্শেই শহরে জন্মগ্রহণ করেন জিদান। ছোটো বেলা থেকেই ফুটবলই তার প্রাণ। মাত্র ১০ বছর বয়সেই মার্শেইর ইউএস সেন্ট হেনরি ক্লাবের জুনিয়র দলের হয়ে তার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয়। তারপর অনেকগুলো ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলার সুযোগ পান।

১৯৯৪ সালের ১৭ আগস্ট ফ্রান্সের হয়ে চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে অভিষেক ঘটে জিদানের। এরপর প্রায় দেড় দশক দেশের জার্সি গায়ে মাঝমাঠে রাজত্ব করেছেন তিনি। ১৯৯৮ ও ২০০৬ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে ফ্রান্স। আর দু’বারই দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন জিদান। ৯৮-বিশ্বকাপের ফাইনালে তার দুটি হেডারের সুবাদে ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারায় ফ্রান্স এবং প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বাদ পায় ফ্রান্স।
২০০০ সালে ফ্রান্সকে ইউরোপ সেরার মুকুট এনে দেয়ার অন্যতম কারিগরও ছিলেন তিনি। ইউরোতে টুর্নামেন্ট সেরা হন জিদানই। ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে জিদান একটি যুগ। তাকে ছাড়া ফ্রান্সের ফুটবল অপূর্ণ। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি অসংখ্য একক পুরস্কার পেয়েছেন, তন্মধ্যে রয়েছে ১৯৯৮, ২০০০, ও ২০০৩ সালে ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় এবং ১৯৯৮ সালে ব্যালন ডি’অর, ১৯৯৬ সালে তিনি বর্ষসেরা লিগ ওয়ান খেলোয়াড়, ২০০১ সালে বর্ষসেরা সিরি এ ফুটবলার, এবং ২০০২ সালে লা লিগা সেরা বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে ভোটে নির্বাচিত হন।
২০১৩-১৪ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেন। ঐ বছরই তিনি রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হন। মাত্র আড়াই বছর রিয়াল মাদ্রিদের কোচিং এর দায়িত্ব পালন করে ২০১৮ সালের মে মাসে রিয়াল মাদ্রিদের কোচের পদ থেকে সরে দাড়ান। মাত্র আড়াই বছর কোচিং করিয়ে যে কোন কোচের চেয়ে সবচেয়ে বেশি ট্রফি জয় করার রেকর্ড গড়েন। গড়েছেন টানা ৩ বার চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা জয়ের রেকর্ড! এছাড়াও লা-লীগায় টানা ১৬ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড করেন যৌথভাবে।
আজ পারফেক্ট ম্যাজিশিয়ান জিদানের জন্মদিন, এই মহান ফুটবলারের কিছু তথ্য

স্প্যানিশ টিম হিসেবে গড়েন টানা ৪০ ম্যাচ আনবিটেন থাকার রেকর্ড! করেছেন টানা ৭৩ ম্যাচে স্কোর করার রেকর্ড! রিয়ালের হয়ে প্রথম দফায় ৯টি শিরোপা জয় করেন। ২০১৭ সালের বেস্ট কোচও নির্বাচিত হন জিদান! ২০১৯ সালে দ্বিতীয় দফায় ফের রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেন। একটি লা-লীগা এবং একটি স্প্যানিশ সুপার কাপ জয় করেন। জিদান রিয়াল মাদ্রিদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (১১টি) শিরোপা জয়ী কোচ। ২০২১-এ রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্ব ছেড়ে এখন একধরনের অবসর সময়ই কাটাচ্ছেন জিদান। আজ ফুটবল প্রেমীদের প্রিয় জিজুর শুভ জন্মদিন।



