নজরবন্দি ব্যুরো: গতমাসেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নতুন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন রাজীব সিনহা। দায়িত্বে এসেই বহু প্রতীক্ষিত পঞ্চায়েত নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে। আর এই ভোট ঘিরেই সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। কমিশনারের পদ থেকে রাজীব সিনহার সরে যাওয়া নিয়েও অনেক জলঘোলা হচ্ছে। এই নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এভাবে কমিশনারকে সরানো যায় না, বিতর্কের মাঝেই সরব মুখ্যমন্ত্রী
আরও পড়ুন: ভোট কি হচ্ছে? কমিশনার কি আছেন? ফের কমিশনকে ভর্ৎসনা বিচারপতি সিনহার
বিরোধী দলের বৈঠকে যোগ দিতে আজই কলকাতা থেকে পাটনার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দুপুরে বিমান ধরার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কমিশনার বিতর্কে মুখ খোলেন। মমতা বলেন, “এভাবে নির্বাচন কমিশনারকে কোনওদিন সরানো যায় না। সরাতে হলে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে সরাতে হয়।” তিনি আরও বলেন, “রাজীব সিনহাকে নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের ফাইলে রাজ্যপালই সই করেছিলেন। কেউ তাঁর উপর চাপিয়ে দেয়নি। ফলে এভাবে কোনওদিন নির্বাচন কমিশনারকে পদচ্যুত করা যায় না।”

বুধবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহার জয়েনিং রিপোর্ট ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি রাজীব সিনহাকে তাঁর পদ থেকে সরে যেতে হবে? বৃহস্পতিবার রাজ্যপালের নাম না নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন কমিশনার পদটিও সাংবিধানিক পদ। তাঁকে শপথ নিতে হয়। এভাবে যা খুশি তাই করা যায় না। সেইসঙ্গে রাজনৈতিকভাবে এও বার্তা দিতে চেয়েছেন, এভাবে তৃণমূল কংগ্রেসকে প্যাঁচে ফেলা যাবে না।”

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই রাজ্যে অশান্তি ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে একের পর এক মামলা দায়ের হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল এক মামলার শুনানি চলাকালীন বলেছিলেন, সামান্য পঞ্চায়েত নির্বাচনেই রক্তপাত। এত অশান্তি হলে ভোট বন্ধ করা উচিত। অন্যদিকে, গতকালই প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম কমিশনারকে ভর্ৎসনা করে বলেছিলেন,”চাপ মনে হলে দায়িত্ব থেকে সরে যান। রাজ্যপাল নতুন কমিশনার নিয়োগ করবেন।” মূলত পঞ্চায়েতের আগেই উত্তেজনা বাংলায়।
এভাবে কমিশনারকে সরানো যায় না, সরব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী




