নজরবন্দি ব্যুরো: বাজিমাত অস্ট্রেলিয়ার। প্রথম টেস্টেই ফিকে পড়ল বাজবল। এজবস্টনে অ্যাশেজের প্রথম টেস্টের শেষদিনে ২৭ বল বাকী থাকতেই ইংল্যান্ডকে ২ উইকেটে হারিয়ে দিল অজিরা। অসাধারণ একটি ইনিংস খেলে ম্যাচ জিতিয়ে নিয়ে গেলেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স (৭৩ বলে ৪৪*)। অষ্টম উইকেটে পড়ে যাওয়ার পর বোলার নাথান লিঁও (২৮ বলে ১৬*)-কে সঙ্গী করে লড়াই করে যান তিনি। যদিও ম্যাচের সেরা হয়েছেন দুই ইনিংস মিলিয়ে ২০৬ রান করা উসমান খোয়াজা। হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ জিতে অস্ট্রেলিয়া প্রমাণ করে দিল যে তাঁরা কেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। এই জয়ের পর অ্যাশেজ টেস্টেও ১-০ এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া।
আরও পড়ুন: কত কোটি টাকার মালিক বিরাট? জেনে নিন কিং কোহলির মোট সম্পত্তির পরিমাণ
সত্যি কথা বলতে গেলে, এই হারের পর হতাশা ছাড়া আর কিছু নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার মতো অবস্থা নেই ইংল্যান্ডের। কারণ, প্রথমে অ্যাশেজের শুরুতে ‘বাজবল’, তারপর ম্যাচের মধ্যিখানে ‘ব্রামবেলা’, একের পর এক ক্রিকেটীয় কৌশল সৃষ্টি করে তাঁরা গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাছাড়া ম্যাচটা একটা সময় এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে ফলাফল যেকোনো পক্ষেই যেতে পারত। ম্যাচটাই জিততে পারত ইংল্যান্ড। আর সেখান থেকে হেরে যাওয়াতেই যেন আরও গ্লানি কাজ করছে ব্রিটিশ শিবিরে।

পঞ্চম দিনের শুরুতে টেস্ট ম্যাচটি জিততে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ১৭৪ রান। আর ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। ক্রিজে তখন ছিলেন প্রথম ইনিংসে শতরান করা খোয়াজা (৩৪*) এবং আগের দিন নাইটওয়াচ ম্যান হিসেবে নাম স্কট বোল্যান্ড (১৩*)। খেলা আরম্ভ হবার খুব তাড়াতাড়িই আউট হয়ে যান বোল্যাণ্ড। অল্প অল্প রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান ট্র্যাভিস হেড ও ক্যামেরন গ্রিন। উল্টো দিক থেকে কিন্তু খোয়াজা রানের গতি কমতে দেননি। এরপর ৬৫ রান করে আউট হয়ে যান খোয়াজা। তারপর ব্যাট হাতে নামেন প্যাট কামিন্স।
অ্যালেক্স ক্যারিকে সঙ্গে নিয়ে ভালোভাবেই এগোচ্ছিলেন কামিন্স। গাড়ি যেন মাঝপথে হঠাৎ হোঁচট খেল। পার্ট টাইম স্পিনার জো রুটকে মারতে গিয়ে কট এন্ড বোল্ড হয়ে গেলেন অ্যালেক্স ক্যারি। তখনই কিন্তু বেশ কিছুটা চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। কারণ হতে তখন মাত্র ২ উইকেটে। এবার ব্যাট করতে নেমেছেন নাথান লিঁও। যিনি খুব ভালো ব্যাটার হিসেবে কখনোই পরিচিত নন। তখন ঠাণ্ডা মাথায় দায়িত্ব নিলেন কামিন্স নিজে। প্রয়োজন আরও ৫৫ রান। একেবারে টিপিক্যাল টেস্ট ইনিংসের মতো ধরে ধরে ম্যাচ বার করে নিয়ে গেলেন অজি অধিনায়ক। খেলাও ছোট হয়ে আসছিল। দাপুটে ইংরেজ বোলাররা তখন তেজ বাড়াচ্ছেন। রান করাটাও প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ছিল। সেখান থেকে ৪.৩ ওভার বাকী থাকতেই ম্যাচ বার করে নেন কামিন্স ও লিঁও।

প্রথম টেস্টে হারের ফলে সিরিজে পিছিয়ে পড়ল ইংল্যান্ড। ব্রিটিশ সমর্থকরা কাঠগড়ায় তুলেছেন অধিনায়ক বেন স্টোকসকে। প্রথম ইনিংসে ৪০০ পূরণ হবার আগেই তাঁর ডিক্লেয়ারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। বাজবল ক্রিকেট দিয়ে যে ঝড় ইংল্যান্ড প্রথমে তুলেছিল তা কিন্তু প্রথম টেস্টেই ফিকে পড়ে গেল। এবার দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ড কামব্যাক করতে পারে কিনা সেটাই দেখার। আগামী তিনটি টেস্টে যে আরও উপভোগ্য হতে চলেছে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
প্রথম টেস্টেই ফিকে পড়ল বাজবল, এজবাস্টনে ব্রিটিশ ‘বধ’ অজিদের




