নজরবন্দি ব্যুরো: উপাচার্য নিয়োগ সংরান্ত সার্চ কমিটির গঠনে অর্ডিন্যান্স এনে বদল এনেছে রাজ্য সরকার। এই নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। ওই মামলায় দাবি করা হয়েছে, এর ফলে সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নিলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সহজেই পাশ হয়ে যাবে ওই কমিটিতে।
আরও পড়ুন: ১৪৩ জনের চাকরি বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট, আগামী দিনে বাড়বে সংখ্যা
এবার এই অর্ডিন্যান্সকে চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার এই মামলাটি গৃহীত হয়েছে আদালতে। আগামী ১২ জুন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার উঠেছে।

নয়া এই অর্ডিন্যান্স নিয়ে আপত্তি রয়েছে সার্চ কমিটিতে ৩ জনের বদলে ৫ জনকে নেওয়া হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে উপাচার্য নিয়োগের সার্চ কমিটি গঠনে বদল এনেছে রাজ্য সরকার। তিন সদস্যের মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য তথা রাজ্যপাল, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রতিনিধি এবং রাজ্য সরকারের এক প্রতিনিধি। নয়া অর্ডিন্যান্সে পাঁচ সদস্যের মধ্যে থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য তথা রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রীর এক জন প্রতিনিধি, উচ্চ শিক্ষা দফতরের এক জন প্রতিনিধি, উচ্চ শিক্ষা সংসদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর এক জন প্রতিনিধি। ঠিক এই জায়গাতেই আপত্তি উঠেছে। যা নিয়ে আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে।
এই জনস্বার্থ মামলাতে আইনজীবী সুস্মিতা সাহা দত্তের বক্তব্য, নতুন অর্ডিন্যান্সে সার্চ কমিটিতে রাজ্য সরকারের তিনজন প্রতিনিধি থাকার কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়াচ্ছে রাজ্য স সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নিলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রস্তাব সহজেই পাশ হয়ে যাবে কমিটিতে। এমনকি, এক্ষেত্রে রাজ্যপালের মতামত উপেক্ষা করারও উপায় রয়েছে। তাই সার্চ কমিটির বদলের জন্য রাজ্য যে অর্ডিন্যান্স পাশ করেছে তাকে চ্যালেঞ্জ করা হল।
অন্যদিকে, এই ইস্যুতে রাজ্যের যুক্তি হল আগের কমিটিতে ইউজিসির কোনও সদস্য ছিল না। ফলে আদালতের রায় মেনে সার্চ কমিটিতে বদল করতেই হত। নতুন কমিটিতে ইউজিসির সদস্যকে রাখা হয়েছে। কিন্তু এই কমিটিতে কারা কারা থাকবেন তা আইনে পরিস্কার করে বলা নেই। তাই রাজ্যের প্রতিনিধি বেশি থাকলে আইনত বাধা নেই।

নতুন সার্চ কমিটিতে মুখ্যমন্ত্রীর একজন সদস্য থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে সুস্মিতার বক্তব্য, কমিটিতে নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার জন্যই কি মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধিকে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? মামলার আইনজীবি, কমিটিতে উচ্চ শিক্ষা সংসদের প্রতিনিধিকে রাখার প্রয়োজন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এই বিষয়ে রাজ্যের অবস্থান হল, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসাবে মুখ্যমন্ত্রীকে বসানোর সিদ্ধান্ত পাশ হয়েছে বিধানসভায়। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর একজন প্রতিনিধি থাকা উচিত বলে মনে করা হয়েছে। তবে বিধানসভায় আচার্য পদে মুখ্যমন্ত্রী সংক্রান্ত বিল পাশ হলেও আইনি স্বীকৃতির ক্ষেত্রে রাজ্যপালের সম্মতি সূচক স্বাক্ষর দরকার। এই নিয়ে আগামী দিনে জল কোন দিকে গড়ায় তা নিয়ে সকলের নজর থাকবে।
রাজ্যের সার্চ কমিটির অর্ডিন্যান্স ঘিরে বিতর্ক, জনস্বার্থ মামলা দায়ের হাইকোর্টে

ইতিমধ্যে রাজ্যের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের জন্যে নবান্নে চিঠি পাঠান রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। এখান থেকেই রাজ্য বনাম রাজ্যপাল সংঘাত চরমে ওঠে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু টুইট করে বলেন, এই পদ্ধতি আইনসম্মত নয়। উচ্চশিক্ষা দফতরের সঙ্গে এই বিষয়ে আচার্য কোনও রকম আলোচনা করেননি। এর পরে যাঁরা রাজ্যপালের কাছ থেকে অস্থায়ী উপাচার্যের নিয়োগপত্র পেয়েছেন, তাঁদের ওই পদ প্রত্যাখ্যানের ‘সসম্মান অনুরোধ’ জানান ব্রাত্য। এই চাপানউতোরের মাঝে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা।



