নজরবন্দি ব্যুরোঃ বকেয়া মহার্ঘ ভাতার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশ। সংকারি কর্মী সংগ্রামী যৌথমঞ্চের ডাকে ১০০ দিন ধরে ধরনা অনশন চালিয়েছেন তাঁরা। গতকাল মহামিছিল হয় তাঁদের। এমনকী, ১০ মার্চ বন্ধের ডাক দিয়েছিলেন তাঁরা। ধর্মঘটের বিরোধিতা করে রাজ্য সরকারের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, বন্ধের দিন অনুপস্থিত থাকলে ১ দিনের বেতন কাটা হবে। প্রয়োজনে সরকারি কর্মীদের সার্ভিস ব্রেক হবে। সেইমতো পদক্ষেপ নিয়েছিল নবান্ন।
আরও পড়ুনঃ এবার রাজ্যের সব DM অফিস ঘেরাও, বকেয়া ডিএ-র দাবিতে তীব্রতর হবে আন্দোলন
কিন্তু গতকালের মিছিল কার্যত বুক কাঁপিয়ে দিয়েছে রাজ্যের শাসকদলের। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মীরা এভাবে পথে নামবেন তা ভাবতে পারেননি অতিবড় তৃণমূল বোদ্ধা। তার উপরে মিছিলের পর খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ১৪৪ ধারা জারি হওয়ায় আরও ক্ষোভে ফুঁসছেন আন্দোলনকারীরা। এরই মধ্যে বিতর্ক বাড়িয়েছে তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনের মন্তব্য। শান্তনু বলেছেন কোভিডে কাজ না করেও বেতন পেয়েছেন কর্মীরা।

এদিকে সব কিছুর মাঝে ঘরে বাইরে চাপের মধ্যে পড়ল তৃণমূল। বাম জমানায় সরকারি কর্মচারীদের মূল সংগঠন ছিল কো-অর্ডিনেশন কমিটি। সেই সময়ে তৃণমূলের সংগঠন গড়ার দায়িত্ব পেয়েছিলেন মহাকরণে কর্মরত মনোজ। তাঁর সভাপতিত্বেই তৈরি হয় তৃণমূলের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন। অবসরের পর তিনি দীর্ঘ সময় সংগঠনের ‘মেন্টর’ পদেও ছিলেন। এখন তৃণমূলের নদিয়া জেলা কমিটিতে রয়েছেন মনোজ।
DA ইস্যুতে দলের অন্দরেই বাড়ছে বিক্ষোভ, মুখ্যমন্ত্রীকে অতীত স্মরণ করালেন তৃণমূল নেতা

সেই মনোজই অতীত স্মরণ করিয়ে অস্বস্তিতে ফেললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন, ‘‘বাম আমলে তৃণমূলের ডিএ নিয়ে আন্দোলনে আমিই ছিলাম মূল চরিত্র। কিন্তু সেই সময়ে আমরা যে কথা বলেছিলাম তার থেকে আমার সরে গিয়েছি এটা তো অস্বীকার করা যাবে না। ২০১১ সালের ২ মার্চ সোনারপুরে সরকারি কর্মচারীদের একটি সমাবেশ হয়েছিল। সেখানে আমার থেকে বিভিন্ন পরিসংখ্যান জেনে নিয়েই মমতা বক্তব্য রেখেছিলেন। তখন তিনি ক্ষমতায় এলে ডিএ-র দাবি মেনে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন। আশা ছিল, ক্ষমতায় তৃণমূল এলে প্রাপ্য ডিএ মিলবে।’’



