নজরবন্দি ব্যুরোঃ নিজের ঘরে ফিরে এসেছি। গত বছর দলবদলের পর এমন মন্তব্য শোনা গিয়েছিল সাংসদ অর্জুন সিংয়ের কথায়। কিন্তু এক বছরের মাথায় তিনি জানালেন দলের কার্যকলাপে তিনি অসন্তুষ্ট। সোমবার জগদ্দলের সভা থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বসলেন ব্যারাকপুরের সাংসদ। তিনি বলেন, এলাকায় তৃণমূলের অনেক অ্যাক্সিডেন্টাল নেতা তৈরি হয়েছে। তবে কী অর্জুনের হাতের বাইরে চলে গেছে ভাটপাড়া?
আরও পড়ুনঃ MD Salim: এই জোট শুধু মাত্র সাগরদিঘি উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে, স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন সেলিম
তিনি বলেন, আমি ভুল বুঝে দুই বছর অন্য দলে ছিলাম। এলাকায় তৃণমূলের অনেক অ্যাক্সিডেন্টাল নেতা তৈরি হয়েছে। নেতা সেজে অনেকে ঠিকাদারি করছে৷ জোর করে টোটো অটো থেকে তোলা তুলছে৷ এদের বরদাস্ত করবেন না৷ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিলেন, যাঁদের আগে তৃণমূলের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না। তাঁর এখন তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। দলে থেকে নেতা সেজে অনেকে ঠিকাদারি করছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ ঠিকাদারি করলে দলের নেতা হওয়া যাবে না। কেউ এক টাকা চাইলেও যাতে না দেওয়া হয় সেই নির্দেশ দেন তিনি।

এখান থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি অর্জুনের হাতের বাইরে ভাটপাড়া? কারণ, এর আগে একাধিকবার ভাটপাড়া সহ শিল্পাঞ্চল এলাকায় তৃণমূল বনাম বিজেপি গোষ্ঠী কোন্দলের খবর পাওয়া যাচ্ছিল। অর্জুন তৃণমূলের কামব্যাকের পর পরিস্থিতি অনেকটা ঠান্ডা হলেও অর্জুনকে নিয়ে দলের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল, তা একপ্রকার স্পষ্ট। আবার পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা রাজ্য রাজনীতির জন্য একেবারেই সুখকর নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।
এলাকায় তৃণমূলের অনেক অ্যাক্সিডেন্টাল নেতা তৈরি হয়েছে, দাবি অর্জুনের

এর আগে অবশ্য নিয়োগ দুর্নীতি নিয়েও সরব হয়েছিলেন অর্জুন সিং। সেবার তিনি বলেছিলেন, টাকার পাহাড় দেখিয়ে সারা বাংলায় দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।দু’জন চুরি করছে, আর ৯৮% তৃণমূলের ওপরে কিন্তু প্রশ্নচিহ্ন লেগে যাচ্ছে যে, এরা সব চোর। এই দু’জনকে চিহ্নিত করতে হবে। মানুষ কিন্তু সবটাই নজর রাখছে। এমনই কিছু মানুষের জন্য আমাদের অসুবিধা হচ্ছে। অনেকরকম প্রশ্ন ট্রেনে, বাসে শুনতে হচ্ছে।…মানুষ কিন্তু একটু আমাদের ওপরে খারাপ নজরে দেখছে।



