নজরবন্দি ব্যুরোঃ ক্যানসার। ব্রেন স্ট্রোক। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। না, তবু হাল ছাড়েননি ‘ফাইটার’ ঐন্দ্রিলা শর্মা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে টানা ১৭ দিন ধরে জীবনে ফেরার লড়াই লড়ে যাচ্ছেন ২৪ বছরের অভিনেতা। ঐন্দ্রিলার দ্রুত আরোগ্য কামনায় সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল ভরে উঠেছে একের পর এক শুভেচ্ছাবার্তায়। কিন্তু শেষরক্ষা হলনা। প্রয়াত হলেন বাংলার লড়াকু অভিনেত্রী।
আরও পড়ুনঃ সাদা খাতা জমা দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন ১৫০ জন, চাকরি হারাতে চলেছেন সবাই।
১৭ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। দিন দিন তাঁর অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর হৃদ্রোগেও আক্রান্ত হন ঐন্দ্রিলা। গতকাল, বুধবার সকালে পরপর কয়েকবার হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন অভিনেত্রী। শেষপর্যন্ত অভিনেত্রীকে রাখা হয় ‘সিপিআর’ সাপোর্টে। কিন্তু অবস্থা সংকটজনক থেকে চরম সংকটজনক হয়ে ওঠে।

পর পর ২ বার ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে সেই সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা। আবার কাজে ফেরা। লড়াইয়ের অন্যতম নাম ঐন্দ্রিলা। দীপাবলির সন্ধ্যাতেও সেজেগুজে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোকময় ছবি পোস্ট করেছিলেন ঐন্দ্রিলা। কিন্তু তার ১ সপ্তাহের মাথাতেই ফের ছন্দপতন। ১ নভেম্বর রাতে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন অভিনেতা ঐন্দ্রিলা শর্মা। তাঁর শরীরের একদিক অসাড় হয়ে যায়। ঘন ঘন বমি করতে থাকেন। অচেতন হয়ে পড়েন।

সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে ছোটেন তাঁর পরিবার ও বন্ধু সব্যসাচী চৌধুরী। সেদিন রাতেই অস্ত্রোপচার হয় ঐন্দ্রিলার। তখন থেকেই ভেন্টিলেশনে ছিলেন তিনি। মাঝে একবার তাঁকে ভেন্টিলেশন থেকে বার করার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, শরীরে সংক্রমণ বাড়তেই ফের তাঁকে সি-প্যাপ ভেন্টিলেশনে রাখা হয়।
মিরাকেল ছাড়া আর আশা নেই, ঐন্দ্রিলাকে নিয়ে আপডেট দিলেন চিকিৎসকরা।

সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ঐন্দ্রিলার বিশেষ বন্ধু সব্যসাচী চৌধুরী লিখেছিলেন যে অমানুষিক লড়াই চালাচ্ছে ঐন্দ্রিলা। সবাইকে ওর সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করার অনুরোধও করেছিলেন সব্যসাচী। তাঁর এই পোস্ট দেখেই চিন্তিত হয়ে পড়ে ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে অনুরাগীরা সকলেই। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সুদীপ্তা চক্রবর্তী, সকলেই প্রার্থনা শুরু করেন ঐন্দ্রিলার জন্য। তাঁকে ব্যক্তিগত ভাবে চেনেন না এমন ব্যক্তিরাও ঐন্দ্রিলার সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।
ঐন্দ্রিলা শর্মার আরোগ্য কামনা করেছে গোটা টলিউড। কেউ লেখেন, “এই ছোট্ট মেয়েটি এবং ওর সঙ্গীর জন্য প্রার্থনা করুন। ও শুরু থেকে মেয়েটির পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমি তোমাদের দু’জনকেই ব্যক্তিগত ভাবে চিনি না। কিন্তু ঐন্দ্রিলা তোমার লড়াইকে কুর্নিশ জানাতে চাই।” সবার শুধুই প্রার্থনা। কিন্তু কার্যত সব প্রার্থনা ব্যার্থ হতে চলেছে। চিকিৎসকদের হাতে যতটুকু ছিল সেটা করেছেন তাঁরা। কিন্তু এখন যেন আর কিছুই করার নেই। শুধুই সময়ের অপেক্ষা। অপেক্ষা মহাজাগতিক কিছুর বা মীরাকেলের। এখনও কোমার ঐন্দ্রিলা, রয়েছেন ভেন্টিলেটরে। এখন শুধুই প্রার্থনা।



