নজরবন্দি ব্যুরোঃ তিনি পুলিশের বড়কর্তা বলে কথা, তাঁর মর্নিং ওয়াকে বিশেষ নিরাপত্তা থাকবে না! তাই একটা ব্যস্ত রাস্তায় যান চলাচলই বন্ধ করে দিয়েছিলেন কেরালার অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার ট্র্যাফিক (ওয়েস্ট) বিনোদ পিল্লাই! সেই অভিযোগে অবশ্য শো-কজ নোটিস পেতে হল তাঁকে। দিল্লির পর এবার কেরল (Kerala)! ঘটনা এক হলেও চিত্রনাট্য কিছুটা আলাদা। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিনোদ।
আরও পড়ুনঃ আজ বাবাদের দিন, পিতৃপক্ষ। এই ৫ রাশির জাতকরা কিন্তু বাবা হিসেবে সুপারহিরো!
দিল্লির স্টেডিয়ামে কুকুর নিয়ে হাঁটার জন্য সন্ধের পরেই খেলাধুলা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল সঞ্জীব খিরওয়ার নামে এক আইএএসের বিরুদ্ধে! এবার কেরলের এক ট্রাফিক পুলিশের অধিকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল, রাস্তা বন্ধ করে প্রাতঃভ্রমণ (Morning Walk) করার! রাস্তার একটি পুরো লেন বন্ধ করে দিয়ে রোজ সকালে হাঁটতে বেরোন তিনি!

স্থানীয় সূত্রে খবর, কোচির ওই রাস্তা এক অংশ সকাল পাঁচটা থেকে সাতটা অবধি বন্ধ করে রাখা হচ্ছিল গত তিনদিন ধরে। ওই রাস্তাতেই প্রাতঃভ্রমণ করতেন পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (ট্রাফিক ওয়েস্ট) বিনোদ পিল্লাই। রাস্তার সামনে লাগানো থাকত ‘নো এন্ট্রি’ বোর্ড। ফলে ওই সময়ে হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছিল সাধারণ মানুষদের। ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল স্কুল বাসও।
কোচির কুইন্স ওয়াকওয়ে সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিনোদ মর্নিং ওয়াক করবেন বলে গত তিন-চার দিন ধরে বন্ধ রাখা হচ্ছে কুইন্স ওয়াকওয়ে সংলগ্ন রাস্তাটি। প্রাতর্ভ্রমণকারীদের জন্য কুইন্স ওয়াকওয়েতে যান চলাচল বন্ধই থাকে। সেক্ষেত্রে স্কুলবাস এবং অন্যান্য গাড়ি পাশের রাস্তাটা ব্যবহার করে। কিন্তু বিনোদের মর্নিং ওয়াকের জেরে পাশের রাস্তাটিও গত কয়েকদিন ভোর পাঁচটা থেকে সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত বন্ধ করে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
ফলে পাশের রাস্তা দিয়ে উভমুখী যান চলাচল শুরু হয়েছে। বাচ্চাদেরও স্কুলবাস ধরতে হচ্ছে রাস্তা পেরিয়ে। গাছ, ঝোপঝাড়ে ঢাকা সরু ডিভাইডারের উপর দাঁড়িয়ে বাচ্চাদের রাস্তা পারাপার রীতিমতো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। গত ১৬ জুন এক বাসিন্দা ফেসবুকে রাস্তা আটকানোর ছবিও শেয়ার করেন।
প্রাতঃভ্রমণে হাঁটবেন পুলিশ কর্তা, তাই সাতসকালে বন্ধ করা হল সব রাস্তা

সংবাদমাধ্যমের সামনে অবশ্য বিনোদের দাবি, ওই রাস্তাটা কুইন্স ওয়াকওয়ের লাগোয়া, যা প্রাতর্ভ্রমণকারীদের জন্য প্রতি রবিবার বন্ধ থাকে। বাকি দিন রাস্তা আটকানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। কিন্তু বাসিন্দাদের জোটবদ্ধ অভিযোগের জোরে শো-কজের মুখেই পড়তে হল পুলিশকর্তাকে।



