নজরবন্দি ব্যুরোঃ কোভিডের রাশ আলগা হতেই ফের ধর্মতলায় ২১ জুলাই অভিযানের কথা ঘোষণা করল তৃণমূল। একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি শুরু। শুক্রবার ধর্মতলা চলো পোস্টারের মাধ্যমে চেনা ছন্দে ফিরল তৃণমূল। তবে এবারের সমাবেশের জঙ্গলমহল এবং উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে তৃণমূল। সেটা এদিনের বৈঠকে স্পষ্ট। আগামী নির্বাচনে মোড় ঘোরাতেই উদ্যোগ নিচ্ছে দল? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে।
আরও পড়ুনঃ Nupur Sharma: কোথায় নূপুর শর্মা? কলকাতা পুলিশের হাজিরা এড়াতে পারেন তিনি
প্রসঙ্গত, গত লোকসভা নির্বাচন থেকেই উত্তরবঙ্গে দারুণ বিপর্যয় ঘটেছে তৃণমূলের। সেইসঙ্গে জঙ্গলমহলের একাধিক আসন হারাতে হয়েছে ঘাসফুল শিবিরকে। বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ টি আসন পেলেও উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহল নিয়ে চিন্তিত দলের নেতারাই । তাই এখন থেকেই দুই জায়গাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছেন তাঁরা।

সাংবাদিক বৈঠকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, এবার একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা যাতে বেশি করে অংশ নিতে পারেন, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কারণ, ধর্মতলার সমাবেশে এসে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা শোনার ইচ্ছা থাকে উত্তরের নেতা-কর্মীদের। তবে ওইদিন উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতায় আসার জন্য ঠিক কী বন্দোবস্ত করা হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি।

একইসঙ্গে ধর্মতলার সমাবেশের নাম করে চাঁদা আদায় করা যাবে না। সেই নির্দেশ অমান্য করলে দল থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দলের সভায় স্পষ্ট কএ অভিষেক জানিয়ে দিয়েছেন, একুশে সমাবেশের জন্য ১০ পয়সাও চাঁদা নেওয়া যাবে না। যদি কেউ দলের নির্দেশ অমান্য করে চাঁদা আদায় করে, তবে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে দল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হবে বহিষ্কার।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই আগামী দিনে দলের পদক্ষেপ স্থির করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে কর্মীদের কর্মসূচি ধর্মতলার মঞ্চ থেকে স্থির করে দেন দলনেত্রী। গত দুই বছর ভার্চুয়ালি এই সভার আয়োজন করেছিল তৃণমূল। তারপর রাজ্য থেকে বেরিয়ে তৃণমূলের সম্প্রসারণ শুরু হয়েছে। তাই দলের নেতারা এবার চান রেকর্ড সংখ্যক মানুষ ধর্মতলায় জমায়েত হোক।
একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি শুরু, বৈঠক সারলেন অভিষেক

তৃণমূল সূত্রে খবর, এবারের সভামঞ্চ থেকে উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলের জন্য আলাদা বার্তা দিতে পারেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা সফর থেকেই স্পষ্ট। তাই ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তার দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।



