নজরবন্দি ব্যুরোঃ পুলিশ নয়, শটগানের গুলিতে বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে উত্তরকন্যা অভিযানে। বিজেপি কর্মী উলেন রায়ের মৃত্যু ঘিরে গতকাল থেকেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। কিন্তু প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। বিজেপি-র অভিযোগ ছিল পুলিশের গুলিতে প্রান গিয়েছে তাঁদের কর্মীর। কিন্তু ময়না তদন্তের রিপোর্ট বলছে, ‘শটগান’-বা ছররা বন্দুকের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যাক্তির। অন্তত রাজ্য পুলিশের সেটাই দাবি।
আরও পড়ুনঃ অক্সফোর্ডের করোনা টিকা মাত্র ২৫০ টাকায় কেন্দ্রকে বেচবে সেরাম।
সোমবার উত্তরকন্যা অভিযানে গিয়ে গুরুতর আহত হন বিজেপি কর্মী উলেন রায়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁর মৃত্যু হয়। উলেনের আহত হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয় বং রাজনীতি। বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেন, পুলিশ হত্যা করেছে উলেনকে। এদিকে উলেনের মৃত্যুকে ঘিরে আজ পাহাড়ে ১২ ঘন্টার বন্ধ ডেকেছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে পুলিশের তরফে সোমবারই বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছিল। প্ররোচনা সত্বেও শেষ পর্যন্ত পুলিশ সংযত ছিল। পরে শুধুমাত্র জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাসেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। কোনও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি পুলিশ।
গতকাল বিজেপির উত্তরকন্যা অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয় শিলিগুড়িতে। পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিজেপির কর্মীরা। সাংসদ নিশিথ প্রামাণিকের নেতৃত্বে থাকা মিছিলটিই এদিন সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ছিল। পুলিশের দুটি ব্যারিকেড ভাঙে তারা৷ পুলিশকে লক্ষ করে পাথরবৃষ্টিও চলে৷
ব্যারিকেড খুলে এনে রাস্তায় ফেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়। ফুলবাড়ির মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও। সেখানেও তীব্র সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়৷ প্রথমে বিজেপির মহিলা বাহিনীর সাথে সেখানে ধস্তাধস্তি হয় পুলিশের। দুজায়গাতেই চলে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস। পুলিশ মাইকিং করে বারংবার বিজেপি কর্মীদের সংযত হতে বললেও তারা পাথর ছোড়া থেকে বিরত না হওয়ায় পাল্টা লাঠিচার্জে নামে পুলিশ।
রোবোক্যাপের মাধ্যমে বিজেপি কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করার কাজে নামা হয়ে। সংঘর্ষে বিজেপির বহু কর্মী আহত হয়েছে। কয়েকজন পুলিশ কর্মীর গায়েও পাথর লেগেছে বলে খবর। কৈলাস বিজয়বর্গী, তেজস্বী সূর্যরাও গতকাল উপস্থিত ছিলেন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে চাইছে বিজেপি।



