নজরবন্দি ব্যুরোঃ পেগাসাস নিয়ে কেন্দ্র সরকারের বিপক্ষে নিউ ইয়র্ক টাইমসের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট আসার পরেই জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। এবার পেগাসাস নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন আইনজীবী এমএল শর্মা। ইতিমধ্যেই ২০১৭ সালে ইজরায়েলের সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের যে চুক্তি হয়েছিল সেই চুক্তির প্রেক্ষিতে এফআইআর জমা দিতে চলেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ Train Cancellation: হাওড়া-শালিমার থেকে বাতিল একাধিক ট্রেন, জানুন তারিখ
সদ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের ‘দ্য ব্যাটল ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’স মোস্ট পাওয়ারফুল সাইবারওয়েপন’ এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন। সেই সফরেই প্রতিরক্ষা এবং গোয়েন্দা সরঞ্জাম কিনতে ২০০ কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছিল। সেই দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে উল্লেখযোগ্যভাবে ছিল পেগাসাস স্পাইওয়্যারের নাম। কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, একাধিক বিরোধী নেতাদের ফোনে আড়ি পাতার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল পেগাসাস স্পাইওয়্যার।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট আসার পরেই কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তিনি ট্যুইট করে জানিয়েছেন, পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করেছিল মোদি সরকার। সমস্ত বিরোধী দলের নেতারদের ওপর, বিচারব্যবস্থার ওপর এমনকি নিজের সরকারের প্রতিনিধিদের ওপর নজরদারি রেখেছিল মোদি সরকার। এটা রাষ্ট্রদোহ।

উল্লেখ্য, বিশ্বের ১৭ টি সংবাদমাধ্যম ১৮ জুলাই ৫০,০০০ জনের তালিকা প্রকাশ করে৷ যার মধ্যে ভারতের ৩০০ জন রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী এবং সাংবাদিক সহ একাধিক সংস্থার নাম আসে। এই তদন্ত প্রথম শুরু করে প্যারিসের একটি এনজিও ফরবিডেন স্টোরিজ। যার সঙ্গে যুক্ত ছিল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ২০১৭ থেকে শুরু করে ২০১৯ অবধি এই তদন্ত চালানো হয়েছিল। সেখানে বেশ কয়েকজন ভারতীয়দের নামও ছুল। এমনকি গত বছরেও বেশ কয়েকজন ভারতীয়ের ফোনে এই পেগাসাস প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
ইতিমধ্যেই পেগাসাস নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। সেই কমিটির রিপোর্ট হাতে আসার আগেই নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট প্রকাশ। ফের মামলা গড়াল সুপ্রিম কোর্টে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট, ফের আদালতে পেগাসাস

কী এই পেগাসাস টুল? এটা অত্যাধুনিক জিরো ক্লিক টেকনোলজির স্পাইওয়্যার। এটা ফোনে আই মেসেজ, মিসড কল এমনকি কোনও অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ফোনে প্রবেশ করতে পারে। ফোনে প্রবেশের পর এটি গ্যালারি, ইমেইল, কনট্যাক্টস ব্যবহার করতে পারে৷ এটা আপনার ফোনে ব্রাউজার হিস্ট্রি ব্যবহার করতে পারে। এমনকি লাইভ লোকেশন ব্যবহার করতে পারে৷ আপনি যদি একান্ত কোনও বৈঠকে উপস্থিত থাকেন তাহলে এই স্পাইওয়্যার আপনার ফোনের ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন অন করে সমস্ত বিষয়ে অবগত হতে পারে। বার্লিনের অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অফিসিয়ালের কথায়, একবার এই স্পাইওয়্যার ফোনে প্রবেশের পরেই এটা আপনার ফোনের ওপর কন্ট্রোল করতে পারে। এটা অন্যান্যদের থেকে ক্ষতিকারক কারণ, ফোন পেগাসাস ইনফেক্ট হওয়ার পর আপনার ফোনকে অপারেট অবধি করতে পারে৷



