নজরবন্দি ব্যুরোঃ আর হাতে সময় মিলবে হয়তো এক সপ্তাহ। ৭ দিনের মধ্যে বাংলায় আছড়ে পড়বে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ। ৩০ হাজারের গণ্ডি পেরোতে পারে দৈনিক সংক্রমণ। পরিস্থিতি এখন সেই দিকেই এগোচ্ছে। মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মাত্র ৫ দিন আগের কথা। ২৭ ডিসেম্বর ২০২১। ওই দিন রাজ্যের করোনা বুলেটিন জানিয়েছিল ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র ৪৩৯ জন। বর্ষবরণের আগে কোভিডের গ্রাফ স্বস্তি দিয়েছিল চিকিৎসকদের।
আরও পড়ুনঃ ক্রমশ খারাপ হচ্ছে পরিস্থিতি, রাজ্যে আরও ৩ জনের শরীরে মিলল ওমিক্রন!
কিন্তু বর্ষবরণের রাত কাটার আগেই তৃতীয় ঢেউয়ের ইঙ্গিত দেয় মারণ করোনা ভাইরাস। ৩১শে ডিসেম্বরের বুলেটিন জানিয়ে দেয় রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৫১ জন। সেই পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে ওঠে গতকাল অর্থাৎ ১লা জানুয়ারি। ৩১ ডিসেম্বর সকাল ৯ টা থেকে ১লা জানুয়ারি সকাল ৯ টা এই ২৪ ঘন্টার করোনা চিত্র প্রকাশ করে রাজ্য সরকার। দেখা যায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৫২!
সব মিলিয়ে গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে ১ লা জানুয়ারি অর্থাৎ পাঁচ দিনে আক্রান্ত বেড়েছে ১০ গুণ। আর এই পরিসংখ্যানেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। উদ্বেগের এখানেই শেষ নয়। কলকাতায় এখন সংক্রমণের হার ২৩.৪২ শতাংশে। অর্থাৎ যাঁরা করোনা পরীক্ষা করাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে প্রতি ১০০ জনে প্রায় ২৫ জনেরই রিপোর্ট পজিটিভ আসছে। পাওয়া গেছে ওমিক্রন আক্রান্তের খোঁজ। স্বাভাবিকভাবেই উদবিঘ্ন চিকিৎসক মহল।

পাঁচ দিনে আক্রান্ত বেড়েছে ১০ গুণ, ৭ দিনের মধ্যে বাংলায় আছড়ে পড়বে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ

পরিস্থিতি বিচার করে ইতিমধ্যেই একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। জানা গিয়েছে এখনই লকডাউনের সম্ভাবনা নেই। জেলায় জেলায় কনটেইন্মেন্ট জোন তৈরি করে লকডাউন করা হতে পারে। বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বার, রেস্তোরাঁ, সিনেমা হল। বন্ধ করা হতে পারে বা কমিয়ে দেওয়া হতে পারে লোকাল ট্রেনের সংখ্যা। বন্ধ করা হতে পারে স্কুল, কলেজ সহ রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যেকোন অনুষ্ঠান, মেলা বা রাজনৈতিক কর্মসূচীর ওপর জারি হতে পারে নিষেধাজ্ঞা। এই মুহুর্তে সারা দেশে সংক্রমণের হারের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা।



