মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। ছত্তিসগড়ের বস্তার অঞ্চলে একসঙ্গে ৫১ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করলেন, যাঁদের মাথার উপর মোট পুরস্কারের অঙ্ক ছিল ১ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ২৪ জন মহিলা। কেন্দ্রের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার আগেই একের পর এক আত্মসমর্পণের ঘটনায় জোরালো হচ্ছে মাওবাদী দমনের সাফল্যের দাবি।
বস্তার রেঞ্জের আইজি পি সুন্দররাজ জানিয়েছেন, শনিবার সুকমা জেলায় ১৪ জন মহিলা-সহ মোট ২১ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। অন্যদিকে বিজাপুরে আত্মসমর্পণ করেছেন আরও ৩০ জন। তাঁদের মধ্যে ২০ জন মহিলা। আত্মসমর্পণের সময় একে-৪৭, ইনসাস ও এসএলআর-সহ একাধিক অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রও জমা দিয়েছেন তাঁরা।
মাওবাদীদের মূল স্রোতে ফেরাতে ‘পুনা মারগম’ নামে একটি পুনর্বাসন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। সেই প্রকল্পের অধীনেই এই আত্মসমর্পণ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের মাথার উপর মোট পুরস্কারের অঙ্ক ছিল ১ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা।
সুকমার পুলিশ সুপার কিরণ চহ্বান জানিয়েছেন, এলাকায় মাওবাদী-বিরোধী অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি একাধিক নিরাপত্তা শিবির তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নয়নমূলক কাজও চলছে। এর ফলে মাওবাদীরা ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।
উল্লেখযোগ্য, এর আগের দিনই ছত্তিসগড়ের নারায়ণপুর ও মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলির সীমান্তবর্তী ফড়েওয়াড়া এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে সাত জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে শীর্ষ নেতা প্রভাকরও ছিলেন। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে তিনটি একে-৪৭, একটি এসএলআর এবং একটি .৩০৩ রাইফেল।
অন্যদিকে আত্মসমর্পণকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছত্তিসগড়-ওডিশা সীমান্তে যৌথ তল্লাশি চালায় বাহিনী। গাড়িয়াবান্দ জেলার ছয়টি জায়গায় অভিযান চালিয়ে ইনসাস রাইফেল, দেশি পিস্তল, ১২ বোরের বন্দুক, বিপুল কার্তুজ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই ওডিশায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন ১৯ জন মাওবাদী, যাঁদের মধ্যে রাজ্য কমিটির নেতা নিখিল ওরফে নিরঞ্জন রাউত এবং তাঁর স্ত্রীও ছিলেন। তাঁদের মাথার দাম ছিল ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা।



