খাতায় সচল, বাজারে বাতিল! ৫০ পয়সার আধুলি নিয়ে চরম অচলাবস্থা, কী ভাবছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক?

আইনত বৈধ হলেও বাজারে কার্যত অচল ৫০ পয়সার কয়েন। গ্রহণযোগ্যতা কমায় বাতিলের প্রশ্ন উঠছে, সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কমিটি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দেশের মুদ্রা ব্যবস্থায় এক অদ্ভুত বাস্তবতা—আইন অনুযায়ী ৫০ পয়সার কয়েন এখনও সচল, কিন্তু বাজারে তার কোনও মূল্য নেই বললেই চলে। দোকান থেকে ব্যাঙ্ক—প্রায় সব জায়গাতেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এই আধুলি। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে প্রশাসন—সবাই পড়েছেন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি শেষ পর্যন্ত বাতিলের পথে হাঁটবে সরকার?

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, ৫০ পয়সার কয়েন এখনও বৈধ মুদ্রা। তা দিয়ে লেনদেন করতে হবে, ফেরানো যাবে না। সচেতনতা প্রচারও চালানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তার কোনও প্রভাব পড়ছে না। বাজারে তো বটেই, এমনকি দান বা ভিক্ষার পাত্রেও অনেক সময় ৫০ পয়সা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

Shamim Ahamed Ads

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এক আধিকারিকের কথায়, কোনও মুদ্রা বাতিল করা সহজ সিদ্ধান্ত নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অর্থনৈতিক নানা হিসাব। সাধারণত দু’টি কারণে মুদ্রা বাতিল করা হয়—প্রথমত, যদি তার প্রকৃত মূল্য (ফেস ভ্যালু) কার্যত কমে যায়, এবং দ্বিতীয়ত, যদি বাজারে তার গ্রহণযোগ্যতা না থাকে। বর্তমানে দ্বিতীয় কারণটাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রথম কারণটি খতিয়ে দেখতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে তিন সদস্য রয়েছেন, যারা মুদ্রাস্ফীতি ও মনিটারি পলিসির প্রেক্ষিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। এই কমিটিই ভবিষ্যতে ৫০ পয়সা নিয়ে সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণত রিজার্ভ ব্যাঙ্কের চাহিদাভিত্তিক রিপোর্টের উপর নির্ভর করে কত পরিমাণ মুদ্রা ছাপা বা তৈরি হবে, তা নির্ধারণ করে। কিন্তু ৫০ পয়সার চাহিদা নিয়ে শেষ কবে কেন্দ্রকে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও স্পষ্ট তথ্য নেই বলে জানা যাচ্ছে।

এদিকে, কোনও মুদ্রা বাতিলের সিদ্ধান্ত হলে যেমন ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়, তেমনই সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য কয়েন ভেন্ডিং মেশিন চালু করা জরুরি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ৫০ পয়সার জন্য আলাদা ভেন্ডিং মেশিন তৈরি হয়নি।

আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, গত ১৫ বছরে মুম্বই, কলকাতার তারাতলা, হায়দরাবাদ ও নয়ডার টাঁকশালগুলিতে ৫০ পয়সার নতুন কয়েন তৈরি হয়নি। অর্থাৎ বাস্তবে সরকার নিজেই এই মুদ্রার ব্যবহার কমিয়ে আনতে চেয়েছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—খাতায় সচল থাকলেও বাজারে বাতিল হয়ে যাওয়া ৫০ পয়সার ভবিষ্যৎ কী? শেষ পর্যন্ত কি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেবে সরকার, নাকি ফের সচল করতে নেওয়া হবে বিশেষ পদক্ষেপ—সেদিকেই নজর অর্থনৈতিক মহলের।

Topics: Currency, Economy, RBI

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত