সোনা কিনতে চাইছেন? তাহলে আপনার জন্য সুখবর। টানা মূল্য ওঠানামার পর ফের কিছুটা কমেছে সোনার দাম। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এবং বিনিয়োগকারীদের অবস্থান বদলের জেরে দেশের বাজারেও হলুদ ধাতুর দরে পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে বিয়ে, উৎসব কিংবা বিনিয়োগ— সব ক্ষেত্রেই ক্রেতারা এখন কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারছেন।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে সোনার উপর চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ায় বাজারে বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সোনার দামে।
দাম কমার সবচেয়ে বড় সুবিধা পাচ্ছেন গয়না ক্রেতারা। বিশেষ করে বিয়ের মরশুমে যাঁরা বেশি পরিমাণে সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের খরচ কিছুটা কমতে পারে। সোনার দরে সামান্য পতনও বড় কেনাকাটার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় এনে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার বাজারে স্বল্পমেয়াদে ওঠানামা স্বাভাবিক ঘটনা। তাই এককালীন বড় বিনিয়োগের পরিবর্তে ধাপে ধাপে কেনাকাটা করলে ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে। দীর্ঘমেয়াদে সোনা এখনও নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
শুধু গয়না নয়, বিনিয়োগকারীদের জন্য এখন একাধিক বিকল্পও রয়েছে। গোল্ড ETF, ডিজিটাল গোল্ড কিংবা ভবিষ্যতে নতুন ইস্যু এলে সোভরেন গোল্ড বন্ডের মতো মাধ্যমও বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে মেকিং চার্জের অতিরিক্ত খরচ বা সংরক্ষণের ঝামেলা থাকে না।
সাম্প্রতিক বাজারদর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার দাম হয়েছে ১৪,৮০০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ১২,১৫০ টাকা। অন্যদিকে, ১ কেজি রুপোর দাম দাঁড়িয়েছে ২,৬৫,১৯৪ টাকা। তবে ক্রেতাদের মনে রাখতে হবে, এই দামের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ GST যুক্ত হবে।
গত কয়েক বছরে সোনার দাম যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল, তাতে অনেকেই সোনাকে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ সৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। ফলে দাম কিছুটা কমলেও বিনিয়োগের আকর্ষণ এখনও অটুট রয়েছে।
তবে বাজার পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। তাই সোনা বা রুপো কেনার আগে প্রতিদিনের বাজারদর যাচাই করা এবং নিজের প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।



