উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জ থেকে সাইকেল চালিয়ে কলকাতায় এলেন তৃণমূলের ৫ সমর্থক! প্রত্যেকেই পড়ুয়া। লক্ষ্য একুশের শহিদ সমাবেশে যোগদান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই আজ বলেন, একুশে জুলাই তৃণমূলের কাছে একটা আবেগ। সেই আবেগেরই যেন প্রমাণ দিলেন এই পাঁচ যুবক। জানা যাচ্ছে, গত ১৭ জুলাই বিকালে রায়গঞ্জ রওনা দেন তাঁরা। দীর্ঘ সড়ক পথ পেরিয়ে ২০ জুলাই বিকেলে তাঁরা পৌঁছলেন কলকাতায়। এই পাঁচ যুবকের নাম,মৃদুল বর্মণ, শাহাবাজ আলী, বিনু বর্মন, মুন্না রাজবংশী এবং সৌরভ বর্মন।
রাত পোহালেই একুশে জুলাই, অর্থাৎ তৃণমূলের শহিদ দিবস। প্রত্যেক বছরের মতো এবারেও ধর্মতলায় বিশেষ কর্মসূচি রয়েছে শাসক দলের। আর অন্য বছরের তুলনায় এবার যেন কিছুটা বেশিই সাজো সাজো রব। কারণ, সদ্যই লোকসভা ও বিধানসভা উপনির্বাচনে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে তৃণমূল। প্রস্তুতির শেষলগ্নে শনিবার ধর্মতলায় গেলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভাস্থলে ছিলেন প্রায় ৩৫ মিনিট। মাটির ভাঁড়ে চায়ে চুমুক দিলেন। এদিন বিকেলে মমতার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, সায়নী ঘোষ, দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুব্রত বক্সী, অরূপ বিশ্বাস-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা।

সভাস্থলে মমতাকে দেখামাত্র কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা দেখা গেল। মমতা বললেন, ‘‘প্রতিটি নির্বাচনে জয়ের জন্য আমরা ২১ জুলাই থেকেই মা-মাটি-মানুষকে ধন্যবাদ জানাই। এই দিনটিকে আমরা মা-মাটি-মানুষ দিবস হিসাবেও পালন করি।’’ অন্যদিকে, একুশ তারিখ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। গত বছরও বৃষ্টিতেই পালিত হয়েছিল শহিদ সমাবেশ।

আজ সকালেই মমতা সমাজমাধ্যমে লেখেন, “আগামীকাল আবার একুশে! একুশে জুলাই বাংলার ইতিহাসে রক্তঝরা এক দিন। অত্যাচারী সিপিআইএম-এর নির্দেশে সেদিন চলে গিয়েছিল তরতাজা ১৩টি প্রাণ। আমি হারিয়েছিলাম আমার ১৩ জন সহযোদ্ধাকে। তাই একুশে জুলাই আমার কাছে, আমাদের কাছে একটা আবেগ। একুশে জুলাই আজ বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির অন্তরঙ্গ অংশ।”
লক্ষ্য একুশের সমাবেশে যোগদান, উত্তরবঙ্গ থেকে সাইকেলে ধর্মতলায় ৫ তৃণমূল সমর্থক!

একেবারে শেষে মমতা লিখেছেন, “ধর্মতলায় এবারের শহিদ স্মরণ তথা মা-মাটি-মানুষ দিবস অনুষ্ঠানে আমি বাংলার সকল মানুষকে আমন্ত্রণ জানাই। আপনাদের সবার সাগ্রহ উপস্থিতিতে এবারের সমাবেশও অন্যান্যবারের মতো সাফল্যমণ্ডিত হবে, এই বিশ্বাস আমি রাখি। ২১শে জুলাই অশ্রু সজল রক্তে লেখা নাম/ শহিদ স্মরণে রইলো মোদের হাজার হাজার সেলাম।”



