নজরবন্দি ব্যুরোঃ লোকাল ট্রেন এবং দূরপাল্লার ট্রেনে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সফর করেন ভারত জুড়ে। কিন্তু আগামী ৩১মে সেই রেল যাত্রার ছন্দপতন হতে চলেছে ভারত জুড়ে। ওইদিন শূন্যপদে কর্মী নিয়োগ-সহ একাধিক দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন ৩৫ হাজার স্টেশন মাস্টার। অর্থাৎ দেশজুড়ে ৩৫ হাজার রেল স্টেশনের ওপর প্রভাব পড়বে সরাসরি। কাজেই ওইদিন যদি কারও গন্তব্য হয় কোথাও আর মাধ্যম হয় রেল তাহলে আগে থেকেই সতর্ক হোন।
আরও পড়ুনঃ বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্বে সৌমিত্র, বাংলা ভাগের ডাক দিয়ে পুরস্কৃত বিষ্ণুপুরের সাংসদ!
লোকাল ট্রেন হোক বা দূরপাল্লার ট্রেন, রেল পরিষেবা চালু রাখতে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন স্টেশন মাস্টাররা। কেবিন থেকে বসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা। লোকাল, এক্সপ্রেস বা মালগাড়ি, স্টেশন ছেড়ে বেরনো, স্টেশনে ঢোকা, রুট পরিবর্তন, সব কিছুর ওপরেই নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করেন স্টেশন মাস্টাররা। পাশাপশি, স্টেশন চত্বরে যাত্রীরদের সুযোগ সুবিধা, পরিচ্ছন্নতা, কোন প্ল্যাটফর্মে কোন ট্রেন দাঁড়াবে, সব কিছুই তাঁদের নির্দেশ অনুযায়ী সম্পন্ন হয়।

কাজেই একদিনে যদি দেশের ৩৫ হাজার স্টেশন মাস্টার কর্মবিরতি পালন করেন তাহলে তার প্রভাব যে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রেল ব্যাবস্থায় সরাসরি পড়বে তা বলেই বাহুল্য। কিন্তু কেন এই কর্মবিরতি? স্টেশন মাস্টারদের অভিযোগ, দেশজুড়ে প্রায় ৭ হাজার স্টেশন মাস্টারের পদ খালি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষকে বলার পরেও নিয়োগ নিয়ে তাদের কোন হেলদোল নেই। তাই তাদের অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে।

এছাড়াও, ২০২০-র সেপ্টেম্বর মাস থেকে রাতের ডিউটির জন্যে বাড়তি টাকা মিলছে না বলে অভিযোগ। পাশাপশি, নিরাপত্তা, নতুন পেনশন বিধি বাতিল করা, আগের বিধি চালু করার মতো আরও একাধিক দাবি রয়েছে বলে জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া স্টেশন মাস্টার অ্যাসোসিয়েশনের জোনাল প্রেসিডেন্ট ধর্মবীর সিংহ।
লোকাল হোক বা দূরপাল্লার ট্রেন, ৩১ মে কোনভাবেই রিস্ক নেবেন না রেল যাত্রার।

তার কথায়, “এতদিন শান্তিপূর্ণ ভাবেই দাবি-দাওয়া জানিয়ে আসছিলাম আমরা। ২০২০-র অক্টোবরে এক সপ্তাহ ধরে কালো ব্যাজ পরে কাজ করে গিয়েছি। পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটতে দিইনি। ৩১ অক্টোবর একদিনের অনশনও করা হয়। তাতেও কাজ না হওয়াতেই কর্মবিরতি ডাকার সিদ্ধান্ত।”



