নাবালিকা নিখোঁজ-এর একের পর এক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। সাম্প্রতিক এক নাবালিকার নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনার পর সামনে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, গত তিন বছরে একই এলাকা থেকে অন্তত ৩৫ জন নাবালিকা নিখোঁজ হয়েছে। এই ঘটনাগুলির সঙ্গে কোনও পাচারচক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে রাজ্য পুলিশ। তবে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনায় উদ্ধার হওয়া নাবালিকার মৃত্যুর তদন্ত চলাকালীনই পুরনো নিখোঁজের অভিযোগগুলি ফের সামনে আসে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, গত কয়েক বছরে একাধিক পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও অনেক ক্ষেত্রেই তদন্ত আশানুরূপ গতিতে এগোয়নি।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, নিখোঁজের ঘটনাগুলির পিছনে সংঘবদ্ধ পাচারচক্র সক্রিয় থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে রাজ্য পুলিশের নির্দেশে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন থানার নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুরনো অভিযোগগুলিও পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, নিখোঁজ নাবালিকাদের সন্ধানে বিভিন্ন জেলায় যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তঃরাজ্য যোগাযোগ ও সম্ভাব্য পাচারচক্রের গতিবিধিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার পাশাপাশি পুরনো সাক্ষীদের সঙ্গেও নতুন করে কথা বলছেন তদন্তকারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েও অনেক পরিবার পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাননি। যদিও পুলিশ এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব দিয়েই দেখা হয়েছে এবং বর্তমানে সব তথ্য একত্রিত করে তদন্তকে আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।
পুলিশের একাংশের মতে, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোরীদের লক্ষ্য করেই পাচারচক্র সক্রিয় হতে পারে। তাই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং পড়ুয়াদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
একই এলাকা থেকে ধারাবাহিকভাবে নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিশেষ তদন্তকারী দলের রিপোর্টের উপরই এখন নির্ভর করছে, এই ঘটনাগুলির নেপথ্যে আদৌ কোনও সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না এবং নিখোঁজদের সন্ধানে তদন্ত কত দ্রুত সাফল্যের মুখ দেখে।



