32000 Primary Teacher Job Cancel Case নিয়ে রাজ্যে আবারও তীব্র চাঞ্চল্য। কলকাতা হাইকোর্টে প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি বাতিল মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানির আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, SSC-তে যেমন ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হয়েছে, এবার ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
হাইকোর্টের ত্রয়োদশ দফার শুনানি ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে ১১ আগস্ট ২০২৫-এ। এদিন আদালতে এমন কিছু পর্যবেক্ষণ উঠে আসে, যা ভবিষ্যতের রায়কে বড়সড়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী শুনানির সময় যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থী আলাদা করার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি মন্তব্য করেন, “এত বিশাল সংখ্যক প্রার্থীর মধ্যে যোগ্য-অযোগ্য আলাদা করব কীভাবে?”—এই পর্যবেক্ষণ মামলার দিকনির্দেশকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।


টেট দুর্নীতি বনাম নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আইনজীবীদের যুক্তি আলোচনার কেন্দ্রে। আবেদনকারীদের পক্ষ দাবি, যদিও TET পরীক্ষায় অনিয়ম ছিল, তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া দুর্নীতিগ্রস্ত নয়। তাঁদের বক্তব্য, একক বেঞ্চের আগের রায় মূলত টেট দুর্নীতির ভিত্তিতে ছিল, কিন্তু নিয়োগ বাতিলের যুক্তি সেখানে ছিল না। আদালত এই মত গ্রহণ করলে, সম্পূর্ণ নিয়োগ বাতিলের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।
32000 Primary Teacher Job Cancel Case: কি তবে সত্যিই চাকরি যাবে? চরম আশঙ্কা

ওএমআর শিট জালিয়াতির প্রসঙ্গও আলোচনায় উঠে এসেছে। বিশেষত ২০১২ সালের টেট পরীক্ষার OMR দুর্নীতি প্রমাণিত হলে এর প্রভাব পড়তে পারে তিনটি বড় নিয়োগ প্রক্রিয়ায়—২০১২ সালের ১৬,৫০০ শিক্ষক নিয়োগ, ২০১৪ সালের ৪২,০০০ শিক্ষক নিয়োগ এবং ২০২২ সালের ১১,৭৬৫ শিক্ষক নিয়োগে। ফলে মামলার জটিলতা আরও বাড়ছে।
প্রশিক্ষিত প্রার্থী বনাম প্যারা-টিচার প্রসঙ্গেও আদালতে তর্ক-বিতর্ক হয়। শুনানিতে বলা হয়, প্রশিক্ষিত প্রার্থীরা অতিরিক্ত ১৫ নম্বর পান, অন্যদিকে প্যারা-টিচাররা অভিজ্ঞতার জন্য মাত্র ৫ নম্বর পান। যদিও ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া সবার জন্য একই ছিল। বিচারপতি স্পষ্ট করেন, আদালতের মূল উদ্বেগ প্রশিক্ষণহীন প্রার্থীদের নিয়ে, প্যারা-টিচারদের নিয়ে নয়।


জেলাভিত্তিক যুক্তিও আদালতে উঠে আসে। জলপাইগুড়ির পক্ষ থেকে আইনজীবীরা জানান, তাঁদের জেলায় কোনো ইন্টারভিউ বা ডাক দেওয়া হয়নি, তাই তারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। একই সঙ্গে আইনজীবীরা যুক্তি দেন, প্রমাণিত অসদাচারী প্রার্থীদের আলাদা করে বাদ দেওয়া উচিত, একসঙ্গে এতগুলো চাকরি বাতিল করা উচিত নয়।
সব মিলিয়ে মামলাটি এখন এক সংবেদনশীল পর্যায়ে দাঁড়িয়ে। হাইকোর্ট জানিয়েছে, সমস্ত দিক শুনে আগামী ২১ আগস্ট আদালত চূড়ান্ত দিকনির্দেশ দেবে। এই রায়ই নির্ধারণ করবে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ।
তবে শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। আদালতের রায় ঘোষণার আগে তাঁর বক্তব্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের মধ্যে। এখন প্রশ্ন উঠছে—আসলেই কি রাজ্যের ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক চাকরি হারাতে চলেছেন? নাকি আদালত আংশিক ব্যবস্থা নেবে? এর উত্তর মিলবে ২১ আগস্টের রায় ঘোষণার পরেই।








