নজরবন্দি ব্যুরোঃ আজ যুদ্ধের দশম দিন। রাশিয়ার সমকক্ষ না হয়েও কড়া টক্কর দিয়েছে ইউক্রেন। বিপুল শক্তিধর রাশিয়ার সামনে যে এতক্ষন ইউক্রেনের মত দেশ টিকতে পারে সেটাই কল্পনা করেননি অনেকে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা হল, ইউক্রেনের থেকে এই যুদ্ধে অনেক বেশি ক্ষতি হয়েছে রাশিয়ার। এখন সাড়ে ৫ ঘন্টার যুদ্ধবিরতি চলছে, তবে সার্বিক ভাবে যুদ্ধ জয়ের দিকেই এগোচ্ছে রাশিয়া। ইউক্রেনের দক্ষিণে বন্দর শহর খেরসন ইতিমধ্যে রাশিয়ার দখলে চলে গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ এবার মারিউপোলে হামলা রুশ সেনার, স্থানীয় বাসিন্দাদের শহর ছাড়ার নির্দেশ


আজ সন্ধ্যায় যুদ্ধ শুরু হলে রাজধানী কিয়েভ এবং খারকভ দখল নিতে মরন কামড় দেবে রুশ সেনা। ইতিমধ্যেই পুতিন জানিয়েছেন গোটা ইউক্রেন দখল করাই লক্ষ্য রাশিয়ার। তবে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। প্রত্যেক ইঞ্চি জমি দখল নিতে কালঘাম ছুটছে রুশ বাহিনীর। ক্ষেপনাস্ত্র, গুলি, ভ্যাকুয়ম বোম্ব থেকে হাজার হাজার ট্যাক সবই নামিয়েছে রাশিয়া তাহলে এত সময় কেন লাগছে ইউক্রেন দখল করতে?
আসলে রাশিয়ার সাথে সরাসরি যুদ্ধে না নেমেও রাশিয়া কে বেগ দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট। তাঁদের তৈরী FGM-148 Javelin ব্যবহার করছে ইউক্রেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই মারাত্মক অস্ত্র ব্যাবহার করেই রাশিয়াকে ঠেকিয়ে রেখেছে ইউক্রেন। জ্যাভলিন একটি হালকা ওজনের ক্ষেপণাস্ত্র, কাঁধে বসিয়েই তাক করা যায় শত্রুপক্ষের ট্যাঙ্ক, কামান এবং সাঁজোয়া গাড়িকে।
বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এফজিএম জ্যাভলিনের আঘাতে গত ৯ দিনে ২৮০ টি রাশিয়ায় ট্যাঙ্ক ধ্বংস করেছে ইউক্রেন সেনা! মোট ৩০০ বার ব্যবহার করা হয়েছে এই মারণাস্ত্রকে। অর্থাৎ সাফল্যের রেট ৯০ শতাংশ। যা সম্ভবত কল্পনাও করেননি পুতিন।


সমকক্ষ না হয়েও কড়া টক্কর, রাশিয়াকে রুখতে ইউক্রেনের প্রধান অস্ত্র জ্যাভলিন।

২০১৮ সালে প্রথম ইউক্রেনকে জ্যাভলিন ক্ষেপণআস্ত্র সরবরাহ করে আমেরিকা। ইউক্রেনীয় সেনাকে তা ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। শহর, বন্দর থেকে পরমাণু কেন্দ্র, গত কয়েক দিনে ইউক্রেনে মুড়ি-মুড়কির মতো হামলার আঘাত নেমে এসেছে ইউক্রেনের ওপর। ২ হাজারের বেশি সাধারণ মানুষ এবং প্রায় ৪ হাজার সেনার মৃত্যু হয়েছে ইউক্রেনের। ইউক্রেনের ৩৯ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সহ ৬২ টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে রুশ সেনা।
কিন্তু রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধে পাল্টা মার খেতে হয়েছে রাশিয়াকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মারণাস্ত্র জ্যাভলিন ব্যবহার করে মোট ২৮০ টি রাশিয়ায় ট্যাঙ্ক ধ্বংস করার পাশাপাশি ৩০ টি যুদ্ধবিমান এবং ১১টি এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম নষ্ট করে দিয়েছে ইউক্রেন সেনা। এখন পর্যন্ত সাড়ে ৯ হাজারের বেশি রাশিয়ান সেনা শহিদ হয়েছেন যুদ্ধে।







