নজরবন্দি ব্যুরোঃ আক্রান্ত ১৫০০-র উপর রেলকর্মী, চালক ও গার্ডের অভাবে হাওড়ায় ২৬ জোড়া ও শিয়ালদহে ৫৪ জোড়া ট্রেন বাতিল বাতিল করা হল! করোনার ছোবলের প্রভাব পড়ল বাংলার রেল পরিষেবায়। যত দিন গড়াচ্ছে, হাওড়া ও শিয়ালদা শাখায় রেলকর্মীদের মধ্যে সংক্রমণ মাথাচাড়া দিচ্ছে। ব্যাপকভাবে সংক্রামিত হচ্ছেন রেলকর্মীরা। যে কারণে চাইলেও স্বাভাবিক ভাবে রেল পরিষেবা দিতে পারছেনা পূর্ব রেল। কর্মীদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ায় চরম উদ্বেগে রেল প্রশাসন।
আরও পড়ুনঃ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর সেঞ্চুরি, ৭ দিনে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির গতি অর্ধেক হল রাজ্যে!


গত কয়েকদিনের মতো আজও একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে পূর্ব রেলের তরফে। হাওড়ায় আক্রান্ত রেলকর্মীদের সংখ্যা ৬৭০ ছাড়িয়েছে। শিয়ালদহে অতিক্রান্ত ৯০০। পূর্ব রেলের হাওড়া এবং শিয়ালদা ডিভিশনে আক্রান্ত ১৫০০-র উপর রেলকর্মী। বেলাগাম করোনা সংক্রমণের জেরে কার্যত থমকে গিয়েছে বাংলার রেল পরিষেবা। রেল আধিকারিকরা বলছেন, লোকাল ট্রেনে কোভিড বিধি মানা হচ্ছেনা। রেল পুলিশের পক্ষে সমস্ত ষ্টেশন এবং ট্রেনের সমস্ত বগিতে নজরদারি চালান সম্ভব নয়। মানুষের সচেতনতা প্রয়োজন।
অল ইন্ডিয়ে রেলওয়ে মেনস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শিবগোপাল মিশ্র জানিয়েছেন, “দেশের মধ্যে দেড় হাজার রেলকর্মীকে আমরা করোনায় হারিয়েছি। সওয়া এক কোটি রেলকর্মী কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। যাঁদের মধ্যে ৭০ হাজার ভাল হয়ে আবার কাজে যোগ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বেড, চিকিৎসক, চিকিৎসা ব্যবস্থা অক্সিজেন সব কিছুরই আকাল চলছে।”
করোনা কে রুখতে ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্যে জারি হয়েছে কার্ফু। পশ্চিমবঙ্গেও সংক্রমণ চেন ভাঙতে একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নবান্ন। আংশিক লকডাউন শুরু করেছে রাজ্য সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় ভরসা টিকাকরণ। কিন্তু টিকা নিয়ে হাহাকার চলছে রাজ্যে রাজ্যে। এদিকে সংক্রমণ বেড়েই চলেছে করোনার। তারসাথে পাল্লা দিচ্ছে মৃত্যু মিছিল।


রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৫১২ জন জন। যা নিয়ে রাজ্যে সার্বিক ভাবে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লক্ষ ৪৫ হাজার ৮৭৮ জন। এই বিপুল আক্রান্তের মধ্যে এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৫৯ জন। তবে মৃত্যুর গতি নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর সেঞ্চুরি হয়েছে রাজ্যে, আজ মৃত ১০৩ জন। যা নিয়ে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ৪৪৭ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৪ হাজার ৩৭৪ জন।







