যুবভারতী বিশৃঙ্খলা: জেরায় বিস্ফোরক শতদ্রু দত্ত, ‘প্রভাবশালীদের চাপে অ্যাক্সেস কার্ড তিনগুণ করতে হয়েছিল’

মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে ভিআইপি ভিড়, খরচের অঙ্ক ও নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন তথ্য তদন্তকারীদের সামনে; পুলিশ হেফাজতে মুখ খুললেন আয়োজক

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

‘গোট ট্যুর’ শেষে ভারত ছেড়েছেন লিওনেল মেসি। কিন্তু কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন-এ তাঁকে ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। সেই ঘটনার তদন্তে এবার সামনে এল একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

কলকাতায় মেসির সফরের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে। যুবভারতী কাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়ার পরে তদন্তকারীদের জেরায় তিনি দাবি করেছেন, “প্রথমে দেড়শো জনের জন্য গ্রাউন্ড অ্যাক্সেস কার্ডের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে সেই সংখ্যাটা তিনগুণ করতে বাধ্য হতে হয়েছিল।”

খরচের অঙ্ক ও অর্থের উৎস

জেরায় শতদ্রু দত্ত আরও জানিয়েছেন, মেসির ভারত সফরের জন্য মোট খরচ হয়েছিল প্রায় ১০০ কোটি টাকা। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এর মধ্যে ৮৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল মেসিকে পারিশ্রমিক হিসেবে এবং কর বাবদ ভারত সরকারকে দেওয়া হয়েছিল প্রায় ১১ কোটি টাকা।
এই বিপুল ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থের উৎস নিয়েও তিনি তথ্য দিয়েছেন। তাঁর কথায়, মোট খরচের প্রায় ৩০ শতাংশ এসেছিল স্পনসরদের কাছ থেকে এবং আরও ৩০ শতাংশ এসেছে টিকিট বিক্রি করে। বাকি অর্থের ব্যবস্থাপনা কীভাবে হয়েছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

দর্শকদের অভিযোগের প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, ক্রীড়াপ্রেমীদের দীর্ঘ অপেক্ষার পরে গত শনিবার কলকাতায় এসেছিলেন মেসি। যুবভারতীতে তাঁকে এক নজর দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শকেরা ভিড় জমিয়েছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই দর্শকদের অভিযোগ ছিল, মেসির চারপাশে ভিআইপি-দের ঘিরে থাকা নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, কমপক্ষে শতাধিক ভিআইপি মাঠে উপস্থিত ছিলেন, যার ফলে সাধারণ দর্শকেরা প্রায় ২০ মিনিট মেসিকে গ্যালারি থেকে দেখতে পাননি।

এই ভিআইপি ভিড় ও নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত বিশৃঙ্খলার রূপ নেয় বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

একাধিক ধারায় মামলা, তদন্ত জোরদার

যুবভারতী কাণ্ডে শতদ্রু দত্তের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রুজু করেছে পুলিশ। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। অশান্তি, ভাঙচুর, হিংসা ছড়ানো, জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং নাশকতামূলক কার্যকলাপের অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায়—যার মধ্যে কিছু জামিন অযোগ্য ধারাও রয়েছে—মামলা করা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে শতদ্রুকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তাঁর এই বক্তব্য যুবভারতীর বিশৃঙ্খলার নেপথ্যের কারণ ও দায় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত