ক্ষমতার মেয়াদ ফুরোলেই ‘ফের পুরনো জীবনে’! ইউনূস সরকারের উপদেষ্টাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

বাংলাদেশে নির্বাচন ঘিরে শেষের পথে অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব শেষে কেউ ফিরছেন শিক্ষকতায়, কেউ লেখালিখিতে, আবার কেউ মানবাধিকার ও সামাজিক কাজের পরিকল্পনায়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের পথে, আর তার আগেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্ষমতার করিডর ছেড়ে কারা কোন পথে হাঁটবেন। কেউ ফিরতে চান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে, কেউ গবেষণা ও লেখালিখিতে, আবার কেউ মানবাধিকার বা সামাজিক কাজেই নতুন করে ঝাঁপিয়ে পড়ার পরিকল্পনা করছেন। নির্বাচন পরবর্তী সময়ের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন ইউনূস সরকারের একাধিক উপদেষ্টা।

২০২৪ সালের ৫ অগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে গণবিক্ষোভের জেরে পতন হয়েছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। তার পর ৮ অগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। দেড় বছর পর সাধারণ নির্বাচন ঘিরে সেই সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস ছাড়াও এই সরকারের ২০ জন উপদেষ্টা ছিলেন, যাঁদের অনেকেই দায়িত্ব শেষে পুরনো পেশায় ফিরতে চাইছেন।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সরকারি দায়িত্ব শেষ হলে তিনি আবার ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজে যোগ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে মার্চ মাস থেকে নতুন করে কাজ শুরু করার আগে কিছুদিন বিশ্রাম নিতে চান তিনি।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও ফিরতে চান শিক্ষকতায়। উপদেষ্টা হওয়ার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। অধ্যাপনার পাশাপাশি মৌলিক বিষয় নিয়ে লেখালিখি ও গবেষণায় মন দিতে চান তিনি। নজরুল জানিয়েছেন, তাঁর সেই পরিচিত জীবনে ফেরার অপেক্ষাতেই রয়েছেন।

বিদেশ উপদেষ্টা মহম্মদ তৌহিদ হাসানও কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে লেখালিখিতে ফিরতে চান। অন্যদিকে, খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রকের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার আবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। আগে তিনি সংবাদপত্রে নিয়মিত লেখালিখি করতেন। দায়িত্ব শেষ হলে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আগের মতোই যুক্ত থাকতে চান।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও লেখালিখিতে ফেরার কথা জানিয়েছেন। সরকারি দায়িত্বে পাওয়া গাড়ি ইতিমধ্যেই ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নতুন গাড়ি কেনার কথাও ভাবছেন।

সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ জানিয়েছেন, কিছুদিন নিরিবিলিতে সময় কাটানোর পর মানবাধিকার বিষয়ক কাজেই মন দেবেন। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে যুক্ত নারীদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিকে বিভিন্ন মন্ত্রকের উপদেষ্টারা ইতিমধ্যেই সচিবালয় থেকে নিজেদের জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়া শুরু করেছেন। বুধবার প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৃহস্পতিবার ঢাকার গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে তাঁর ভোট দেওয়ার কথা রয়েছে।

নির্বাচন পরবর্তী সময়ের পরিকল্পনাও আগেই জানিয়ে দিয়েছেন ইউনূস। তিনি ‘ডিজিটাল হেলথকেয়ার ডেভেলপমেন্ট’-এর মতো প্রকল্পে কাজ করতে চান, যাতে বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীরা, সহজে স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ পান। পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগও চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন