রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘যুবসাথী’ (যুবশ্রী) প্রকল্পে ২০২৬ সালে এসেছে একাধিক বড় পরিবর্তন। বদলে গেছে আবেদন করার ওয়েবসাইট, কড়া হয়েছে ডকুমেন্ট আপলোডের নিয়ম, এমনকি ফর্ম ফিলাপের ক্ষেত্রেও যুক্ত হয়েছে কিছু নতুন শর্ত। পুরনো পোর্টালে আবেদন করতে গেলে তা গ্রহণ নাও হতে পারে— তাই আবেদনকারীদের নতুন গাইডলাইন জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যুবসাথী প্রকল্পের পুরনো ওয়েবসাইট apas.wb.gov.in আর ব্যবহৃত হচ্ছে না। বর্তমানে সমস্ত আবেদন করতে হবে নতুন ডোমেন https://yubasathi.wb.gov.in/ গিয়ে। যদিও পোর্টালের নকশা ও বেশ কিছু অপশন আগের মতো রাখা হয়েছে, তবে আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়মগুলি কঠোরভাবে কার্যকর হয়েছে।

ওয়েবসাইট বদল: কী পরিবর্তন হল?
নতুন পোর্টাল চালু হওয়ার ফলে আবেদনকারীদের প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে যে তারা সঠিক ওয়েবসাইট ব্যবহার করছেন। পুরনো সাইটে প্রবেশ করলে আবেদন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। সরকার এই পরিবর্তনের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চাইছে।
Self-Attested ডকুমেন্ট বাধ্যতামূলক
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ডকুমেন্ট আপলোডের ক্ষেত্রে। আগে অনেকেই সরাসরি অরিজিনাল সার্টিফিকেট স্ক্যান করে আপলোড করতেন। এখন তা করলে আবেদন বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নতুন নিয়ম কী বলছে?
প্রতিটি নথি আগে ফটোকপি করতে হবে। সেই কপির নীচে নিজের স্বাক্ষর করে “Self-Attested” লিখতে হবে। তারপর সেই সই করা কপিটি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।


প্রযুক্তিগত শর্তও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে—
-
ডকুমেন্ট PDF ফরম্যাটে (৩০০ KB-র কম)
সবচেয়ে বেশি বার পড়া হয়েছে:
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর ‘বাংলার যুব সাথী’, মাসে ১৫০০ টাকা পাবেন রাজ্যের যুবকরা -
ছবি ও সই JPG/JPEG ফরম্যাটে (৫০ KB-র কম)
কারা আবেদন করতে পারবেন?
আবেদনের আগে যোগ্যতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বয়সসীমা: ২১ থেকে ৪০ বছর।
জন্মতারিখ বসালেই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বয়স যাচাই করবে। গড়মিল থাকলে আবেদন করা যাবে না।
অন্যান্য সরকারি অনুদান:
যারা ইতিমধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কৃষক বন্ধু ইত্যাদি সরাসরি আর্থিক সহায়তা পান, তারা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না। তবে শিক্ষামূলক স্কলারশিপ পেলে সমস্যা নেই।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
আবেদন করার আগে নিম্নলিখিত নথি স্ক্যান করে প্রস্তুত রাখুন—
-
মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড (বয়স প্রমাণ)
-
মাধ্যমিকের মার্কশিট বা সার্টিফিকেট
-
আধার কার্ড
-
ভোটার কার্ড (অবশ্যই প্রয়োজন)
-
নিজস্ব ব্যাঙ্ক পাসবুক (আধার লিঙ্ক থাকা ভাল)
-
কাস্ট সার্টিফিকেট (যদি প্রযোজ্য হয়)
-
পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি ও সই
ধাপে ধাপে আবেদন পদ্ধতি
১. রেজিস্ট্রেশন:
নতুন ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Apply Online’-এ ক্লিক করুন। মোবাইল নম্বর ও ক্যাপচা দিয়ে OTP ভেরিফিকেশন করুন।
২. ব্যক্তিগত তথ্য:
আধার ও মাধ্যমিক সার্টিফিকেট অনুযায়ী নাম, পিতার নাম ও জন্মতারিখ লিখুন। বিবাহিত মহিলারা স্বামীর নাম ব্যবহার করতে পারেন।
৩. ঠিকানা ও শিক্ষা:
জেলা, ব্লক, থানা, পিন কোড নির্বাচন করুন। মাধ্যমিকের বোর্ড, পাসের সাল ও রোল নম্বর দিন। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতাও উল্লেখ করা যাবে।
৪. পেশা নির্বাচন:
‘Current Occupation’-এ “Unemployed” নির্বাচন করাই যুক্তিযুক্ত, কারণ এটি বেকার ভাতা প্রকল্প।
৫. চূড়ান্ত সাবমিট:
সব নথি আপলোডের পর ‘Ready to Submit’-এ ক্লিক করুন। একটি Application ID দেওয়া হবে। সেটি ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করুন।
পরবর্তীতে ‘Check Status’-এ গিয়ে মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করে আবেদনপত্রের অবস্থা জানা যাবে।
যুবসাথী প্রকল্প রাজ্যের বেকার যুবসমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে নতুন নিয়ম না জেনে আবেদন করলে তা বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই সঠিক পোর্টাল ও সঠিক পদ্ধতিতে আবেদন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।








