রাজ্য সরকারের ‘স্বনির্ভর বাংলা’ কর্মসূচির প্রথম দিনেই নজিরবিহীন সাড়া। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যজুড়ে একদিনে ৬ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে সদ্য ঘোষিত ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের জন্য। অর্থাৎ, প্রথম দিনেই প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতী ভাতার আশায় আবেদন জমা দিয়েছেন—যা ভোটের আগে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
‘স্বনির্ভর বাংলা’ কর্মসূচির আওতায় মোট চারটি প্রকল্পের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে লক্ষ্মীর ভান্ডার-সহ একাধিক জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। তবে এবারের কর্মসূচির মূল আকর্ষণ নিঃসন্দেহে ‘যুব সাথী’ প্রকল্প। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, রাজ্যের প্রত্যেক মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবক-যুবতীকে মাসিক ভাতা দেওয়া হবে। সেই ঘোষণার পর থেকেই জেলায় জেলায় আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।


রবিবার কর্মসূচির প্রথম দিনেই সেই আগ্রহের প্রতিফলন স্পষ্ট। জেলার পর জেলা থেকে আবেদনকারীরা ক্যাম্পে ভিড় করেন। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, মোট ৬ লক্ষের বেশি আবেদনের মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ আবেদন এসেছে শুধু ‘যুব সাথী’র জন্য। অর্থাৎ, সামগ্রিক আবেদনের প্রায় ৯০ শতাংশই এই এক প্রকল্পকে ঘিরে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে এই কর্মসূচির ক্যাম্প খোলা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হচ্ছে। ছুটির দিন ক্যাম্প বন্ধ থাকলেও অন্য দিনগুলিতে নিয়মিত পরিষেবা মিলবে। প্রতিটি ক্যাম্পে চারটি পৃথক দফতরের আধিকারিক উপস্থিত থাকছেন, যাতে আবেদন গ্রহণ ও যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
কর্মসূচি চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ফলে আগামী দিনগুলিতে আবেদনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে প্রশাসনের অনুমান। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় যুব সম্প্রদায়ের সাড়া যে উল্লেখযোগ্য, তা প্রথম দিনের পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট।


রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বেকার ভাতা সংক্রান্ত এই প্রকল্প ভোটমুখী বাংলায় বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে সরকারের দাবি, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ও স্বনির্ভরতার পথে যুব সমাজকে এগিয়ে দিতেই এই উদ্যোগ।
প্রথম দিনের বিপুল সাড়া প্রমাণ করছে—রাজ্যের তরুণ প্রজন্ম এই প্রকল্পকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে। এখন নজর, আবেদন যাচাই ও বাস্তবায়নের গতির দিকে।







