নজরবন্দি ব্যুরো: ভাতা নয়, চাকরি চাই”, স্লোগানে ফের একবার পথে নামলেন যুবশ্রীরা। বহু আবেদন-নিবেদনের মাধ্যমে সাড়া না পাওয়ায় অল বেঙ্গল ইউথ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বেকার যুবশ্রী কর্মপ্রার্থীরা আবার ও রাস্তায় নেমেছিলেন। যুবশ্রী কর্মপ্রার্থীরা মুখ্যমন্ত্রীর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। আজ থেকে প্রায় সাত বছর আগে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংকে নাম নথিভুক্ত বেকারদের উদ্দেশ্যে মাসে ১৫০০ টাকা উৎসাহ ভাতা চালু করেন ।
আরও পড়ুনঃ আগামী ৩০শে বঙ্গে CAA নিয়ে ঘোষণা, ঠাকুরনগরে সভা শাহ-র
এবং সেই মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রথম ১ লক্ষ যারা আজ থেকে মাসে ১৫০০ টাকা করে উৎসাহ ভাতা পাচ্ছেন তাদের এক বছরের মধ্যে বয়স এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সরাসরি সরকারি দপ্তর গুলিতে নিয়োগ এর মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা হবে এবং ৭৫শতাংশ শুন্যপদ এ নিয়োগ এই এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংক থেকেই হবে। এই একলাখ ভাতা প্রাপক নিয়োগ হয়ে গেলে তাদের ভাতা বন্ধ করে পরের একলক্ষকে ভাতার আওতায় এনে এইভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।
যদিও সাত বছর অপেক্ষা করার পরও প্রথম নথিভুক্ত বেকার কর্মপ্রার্থীদের ই কোনো সুরাহা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান কার্যালয় থেকে শ্রমদপ্তর এমনকি প্রত্যেকটি বিভাগীয় দপ্তরে ‘অল বেঙ্গল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ এর পক্ষ থেকে বহুবার স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছিল। এর আগে ও তারা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের ঠিকানায় যুবশ্রীদের দূরাবস্থার কথা জানিয়ে খোলা চিঠি দিয়েছিলেন।
তারা বিভিন্ন জেলা থেকে সমস্ত বিধায়ক সাংসদ রাজ্যের মন্ত্রীদের দরজায় দরজায় ঘুরেছেন কিন্তু কোনও সদুত্তর পায়নি। করোনা-লকডাউন পরিস্থিতিতে শিক্ষিত বেকার কর্মপ্রার্থীরা অত্যন্ত অসহায় হয়ে পড়েছে জীবনধারণের মতো কোনো কর্ম না থাকায় যুবশ্রী কর্মপ্রার্থীরা আবার ‘ভাতা নয়-চাকরি চাই’ স্লোগান নিয়ে আবার পথে নামবে আগামী ৭ জানুয়ারি। বৃহস্পতিবার যুবশ্রীদের ডাকে যে নবান্ন ও নব মহাকরণ অভিযান এর ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
এদিন কলকাতার রাজপথে যুবশ্রী আন্দোলন এর সমর্থনে নদীয়া জেলা কমিটির সভাপতি অনিমেষ বন্দোপাধ্যায় ও জেলা কার্যকরী সদস্যদের নেতৃত্বে এবং জেলা সদস্যদের সহযোগিতায় কৃষ্ণনগর পোস্ট অফিস মোড় থেকে মহামিছিলের মাধ্যমে জেলাশাসকের দপ্তরের গেটের বাইরে মিছিল হবে। কয়েকদিন আগে শাসকদলের এক সাংসদ এর যুবশ্রী নিয়ে এর বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করা হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। তাদের প্রত্যেকের হাতে ছিল প্ল্যাকারড তাতে লেখা দিদি যুবশ্রীদের মে স্বপ্ন ২০১৩ আপনি দেখিয়েছিলেন তা বাস্তবায়িত করুন।
আবার কারও হাতে থালায় ছিল মুড়ি চপ ইত্যাদি তাদের বক্তব্য দিদি ১৫০০ টাকায় পরিবারে আজ কারও মুখে ভাত তুলে দেওয়া সম্ভব নয়। অতঃপর তারা জেলাশাসকের দপ্তরে বিভাগীয় প্রধানকে ডেপুটেশন প্রদান করেন সংগঠনের কয়েকজন প্রতিনিধি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এবং বিভাগীয় দপ্তরে বিষয়টি পাঠানো হবে। এ বিষয়ে জেলা কমিটির সদস্য অনিমেষ বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন আগামী ৭ জানুয়ারি তাদের নবান্ন অভিযান এ তাদের দাবি মানা না হলে তারা রিলে অনশন শুরু করবেন। এবং যুবশ্রীদের এক অন্যরকম আন্দোলন এর রূপ দেখবে রাজ্য।যা সরকারের চিন্তার পক্ষে যথেষ্ট।



