শিলিগুড়ি, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ‘মা আই কুইট’ বোর্ডে মায়ের উদ্দেশ্যে শেষ লেখা। বিছানার ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বই। বোর্ডের ওপর স্মাইলি এবং দেওয়া সময়।
নাম সোমনাথ সাহা, বাড়ি শিলিগুড়ির জ্যোতিনগর এলাকায়। শিলিগুড়ি উচ্চতর বালক বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া সোমনাথের এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয় আমির খান অভিনিত “তারে জমিন পে” ছবির কথা। এলাকার বাসিন্দাদের অভিমত আজকাল বেশীরভাগ বাবা-মা ফ্যামিলিতে তাঁদের সন্তান ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়র হয়ে উঠুক।কিন্তু এর বাস্তব চিত্র কতটা ভয়ঙ্কর, তা মনে করিয়ে দেয়।


আরও পড়ুনঃ SSC চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, গ্রেফতার ১২ জন হবু শিক্ষক।
প্রায় দুই বছর ধরে বাকিদের মতো শিলিগুড়ির সোমনাথের বাড়িতে বসেই চলছিল পড়াশুনো। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। মঙ্গলবার বিকেলে ঘরের ভিতর থেকেই গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার হয় সোমনাথের দেহ। সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছিল নিথর দেহটি। ঘরেই হোয়াইট বোর্ড। সেখানে অঙ্ক কষছিল সে। কিন্তু সেই অঙ্কটা আর মিলল না শেষ পর্যন্ত। বড় বড় করে হোয়াইট বোর্ডের মধ্যে লেখা ‘মা আই কুইট।’ সঙ্গে সময়েরও উল্লেখ করা রয়েছে। দুপুর আড়াইটে। আর একটি স্মাইলি।
কেন এই ঘটনা ঘটল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সকলেই। মঙ্গলবার থেকে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন সোমনাথের মা। বাবা অঝোরে কাঁদছেন। প্রাথমিকভাবে পরিবারের ধারণা, পড়াশোনা নিয়ে মানসিক অবসাদের কারণেই আত্মহত্যা করেছে সোমনাথ। যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর আসল কারণ এখনও জানা যায়নি।



এলাকায় এবং স্কুলে যথেষ্ট মেধাবী ছাত্র বলেই পরিচিত ছিল সোমনাথ। স্বপ্ন ছিল পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করে পরবর্তীতে অ্যাস্ট্রোনমি নিয়ে পড়ার। তবে তার এই স্বপ্নের পথে কি শেষ পর্যন্ত বাধ সাধল মানসিক অবসাদ? আর সেই থেকেই কি এই চরম পথ বেছে নিল সোমনাথ?
মঙ্গলবার সন্ধায় সোমনাথের শোয়ার ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবার সূত্রে খবর, দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর সে নিজের ঘরে গিয়ে পড়াশোনা করছিল। তবে বিকেল নাগাদ আচমকাই তাঁর ঠাকুমা দেখতে পায় ঘরের ভেতরে থাকা ফ্যানের ঝুলছে সোমনাথের দেহ। এরপরই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। বুধবার সন্ধ্যায় ওই ছাত্রের দেহ আনা হয় তাঁর বাড়িতে। তার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা।
‘মা আই কুইট’ বোর্ডে মায়ের উদ্দেশ্যে শেষ লেখা, মানসিক অবসাদের কারণে মৃত্যু সোমনাথের

সোমনাথের বাবা সুবীর সাহা বলেন, “সোমনাথ পড়াশোনা নিয়েই থাকত। নিজের পড়াশোনা নিয়ে খুব চিন্তিতও ছিল সে। গতকাল দুপুরে বাড়িতে সবার সঙ্গে সময় কাটিয়ে নিজের পড়ার ঘরে গিয়ে পড়াশোনা করছিল। তারপরে বিকেল নাগাদ এই ঘটনা। হয়ত অঙ্ক করছিল, সেই অঙ্ক না মেলায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।”







