নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিগত কয়েক দিন ধরে লাগাতার ইউক্রেনের বুকে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র, বোমা আছড়ে পড়েছে।কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সেনা এবং সাধারণ মানুষ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশের যুদ্ধের মাঝে চরম বিকাপে পড়েছেন অন্য দেশের মানুষ। ভারতের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতেঃচলছে অপারেশন গঙ্গা। সেখানে থাকা ভারতীয়দের অধিকাংশের দেশে ফেরার তাড়া থাকলেও কিছুটা ভিন্ন পথে হাঁটছেন বাঙালি চিকিৎসক-অধ্যাপক ডাক্তার পৃথ্বীরাজ ঘোষ।
আরও পড়ুনঃ Russia-Ukraine War: থাকবে না ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় অধিকার? বড় হুমকি পুতিনের


গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকেই ইউক্রেনের উপর মুহুর্মুহু আক্রমণ চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। যতই সময় এগিয়েছে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিনত হয়েছে ইউরোপের ছোট্ট দেশটি। বোমার আঘাতে প্রাণ গিয়েছে এক ভারতীয় নাগরিকের। পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রম করতে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে বহু নাগরিকদের। তাহলে কেন কিয়েভে রয়েছেন এই বাঙালি যুবক?
এই প্রসঙ্গে চিকিৎসক-অধ্যাপক ডাক্তার পৃথ্বীরাজ ঘোষ। “আমি পালাতে শিখিনি, ওদের জন্য পড়ে রয়েছি।” নিজের ছাত্রছাত্রীদের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার তরফে ইউক্রেন হামলা শুরু করার পর থেকেই প্রচণ্ড বিপদে পড়েছে ছাত্রছাত্রীরা। বেশ কিছুজন নিরাপদে দেশে ফিরতে সক্ষম হলেও এখনো ইউক্রেনে আঁটকে রয়েছেন অনেকে। তাদের দেশে ফেরানোই এখন একমাত্র লক্ষ্য তার।
আমি পালাতে শিখিনি, ছাত্রদের দেশে পাঠানোই একমাত্র লক্ষ্য এই চিকিৎসক-অধ্যাপকের

জানা গিয়েছে, এখনো পর্যন্ত ৩৫০ জন পড়ুয়াকে দেশে ফিরিয়েছেন তিনি। কিন্তু সকলকে না ফিরিয়ে দেশে ফিরতে নারাজ এই বাঙালি চিকিৎসক-অধ্যাপক। পৃথ্বীরাজ ঘোষের বাড়ির লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে উদ্বেগের স্বর শোনা যায় তাদের গলায়। তবে ছেলের এমন কাজে সমর্থন করছেন বাবা প্রদীপ ঘোষ ও মা ব্রততী ঘোষ। তার বাবার কথায়, “আমাদের চিন্তায় থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু ও নিজের দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর।” একই কথা মায়ের মুখে। ব্রততী ঘোষ বলেন, “মানুষের মতো মানুষ হয়েছে আমাদের ছেলে। ওর কোনও ক্ষতি হবে না৷”









