নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রথমবার ভোট দিতে এসে গুলিতে প্রাণ গেল অষ্টাদশের তরুণের, উত্তপ্ত শীতলকুচি। ভোট শুরুর আগে থেকেই ধিকিধিকি আগুন জ্বলছিলই। আজ ভোটের দিন সকালে সেই আগুন যেন দাবানলে পরিণত হল কোচবিহারের শীতলকুচি। জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে এসে প্রান গেল বছর ১৮ র তরুনের। ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ওই যুবক।
আরও পড়ুনঃ চতুর্থ দফা ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে ভাঙড় থানার আইসি কে সরাল কমিশন। #BREAKING


আচমকাই সেখানে গুলি চলে। সেই গুলিতেই ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে যায় ওই তরুণ। এই ঘটনার পর কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় শীতলকুচি। এছারাও সেখানে তৃণমূল কর্মীদের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমনের অভিযোগ উঠছে বিজেপির বিরুদ্ধে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি গুলি বোমা নিয়ে এলাকায় সন্ত্রাস চালাচ্ছে তৃণমূল। অন্যদিকে সকালে পাঠানটুলির একটি বুথে ভোটের লাইনে এলোপাথাড়ি গুলি চলে। বোমাবাজিও হয় বুথ লক্ষ্য করে। বিজেপির অভিযোগ, তাদের এজেন্ট আনন্দ বর্মনকে বুথে ঢুকতে বাধা দেয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। এই নিয়ে উভয় পক্ষে বচসা শুরু হয়ে যায়। সেখান থেকে হাতাহাতি। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় পাঠানটুলি। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষ চলার সময় ভোটের লাইন লক্ষ্য করে গুলি চলে। গুলিবিদ্ধ হন তরুণ আনন্দ বর্মন। জানা গেছে এবছরই নাকি প্রথম ভোট দিতেন আনন্দ।
রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয়। বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায় পাঠানটুলিতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠইচার্জ করে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। এলাকায় নামে র্যাফ। এদিকে তৃণমূল দাবি করেছে, মৃত তরুণ তাদের দলের সমর্থক। অভিযোগ, গুলি চালিয়েছে বিজেপির কর্মীরা। যদিও মৃত তরুণের পরিবারের দাবি, তিনি বিজেপিরই সমর্থক ছিলেন। পাঠানটুলিতে উত্তেজনা যখন চরমে, তখন খবর আসে শীতলকুচির পাগলাপীরের কাছে গুলি চলেছে। শাসক দলের অভিযোগ বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা গুলি চালিয়ে ভোটারদের ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা করছে। পাগলাপীরে অশান্তি বাড়ছে। তৃণমূল কর্মীদের ধারালো অস্ত্রের কোপ মারা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ২৬৫ নম্বর বুথের কাছে এদিন সকাল থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। শাসক দলের দাবি, এদিন সকালে তাদের কয়েকজন কর্মী ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন।
প্রথমবার ভোট দিতে এসে গুলিতে প্রাণ গেল অষ্টাদশের তরুণের, উত্তপ্ত শীতলকুচি। তখনই ছুরি নিয়ে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। জখম অন্তত তিনজন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সকাল থেকেই থমথমে শীতলকুচির নানা এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। সব মিলিয়ে চতুর্থ দফা নির্বাচনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বঙ্গে।









