নজরবন্দি ব্যুরোঃ কানপুর কাণ্ডের পর যোগী আদিত্যনাথ অত্যন্ত রুষ্ট হয়েছিলেন । আর মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি করতে তত্পবর পুলিশ । শুরু হয়েছে ‘অপারেশন ক্লিন’। ২৩ জুলাইয়ের রাতে আট পুলিশ কর্মী শহিদ হন । তার পর থেকে পুলিশ একে একে হিস্ট্রি শিটার বিকাশ দুবে সহ ১০ জন মারা গিয়েছে আর ১৫ জন অত্যন্ত আহত হয়েছে ।
আরও পড়ুনঃ ৩০ হাজারেরও বেশি পদে নিয়োগের পরিকল্পনা রাজ্যের!


উত্তরপ্রদেশের এডিজি প্রশান্ত কুমার জানিয়ে দিয়েছেন যেকোনও অপরাধীই হোক কোনও রকমের ছাড় দেওয়া হবে না। সমস্ত ছোট বড় অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে । তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন কাউকে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না । সমস্ত জেলার থানার অধিকর্তাদের সেই এলাকার কুখ্যাত ১০ অপরাধীর তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । কিন্তু তেলঙ্গনা এনকাউন্টারের পরদিনই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, ‘বিচার কখনই প্রতিহিংসার রূপ হতে পারে না।’
আইনের কাজ শাস্তি দেওয়া। খুনি বা ধর্ষকের মতো অপরাধীকে হত্যার অধিকার দেয় না ভারতের সংবিধান। তাহলে সংবিধান বিরোধী পুলিশের ‘ইনস্ট্যান্ট জাস্টিস’-এ কেন আমাদের এই উচ্ছ্বাস? কেন এত উন্মাদনা? বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি তীব্র অবিশ্বাসেরই স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ। ফলত, প্রয়োজন পুলিশি ব্যবস্থায় সংস্কার। অবিশ্বাসের শিকড়ে পৌঁছলেই দেখা যায়, অপরাদীকে দোষী সাব্যস্ত করতে পুলিশ প্রশাসনের ঢিলেমি, অপদার্থতার উদাহরণ ভুরি ভুরি রয়েছে। সময়ের মধ্যে চার্জশিট জমা পড়ে না।
তথ্য প্রমাণ জোগাড় করতে কালঘাম ছোটে পুলিশের। রাজনৈতিক চাপ, অসত্ প্রবৃত্তি ছাড়াও ওকালতির ছলছাতুরিতে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। যেমন গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে খতম হয়ে গিয়েছে ২৪ ঘণ্টার বেশি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও সে চর্চায়। চর্চায় তার ৫২ বছরের জীবনের বিপুল অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য। চর্চায় তার সঙ্গে কোন কোন রাজনীতিক বা পুলিশকর্তাদের যোগাযোগ ছিল তা নিয়ে। তার স্ত্রী, ছেলে, পুত্রবধূ, শাগরেদ ধরা পড়েছে অনেকেই। অনেকে আবার নিকেশ। কিন্তু যে এই সব কিছুর উত্তর দিতে পারত, সেই বিকাশই মারা যাওয়ায় সেই সব প্রশ্নের উত্তর আর কখনও মিলবে কিনা তা নিয়ে ধন্দে বিশেষজ্ঞ মহল। ফলে এই ‘অপারেশন ক্লিন’ করে হয়তো রাজ্যের অপরাধ কিছুটা কমবে কিন্তু এই সব মানুষের পিছনে যে সব অতি খারাপ মানুষের হাত ছিল তারা হয়তো বেঁচে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।









