কলকাতার রাস্তায় ১৫ বছরের পুরনো হলুদ ট্যাক্সি বাতিলের নিয়মে সংকটে পড়েছে প্রায় আড়াই হাজার ট্যাক্সি। এর ফলে একদিকে ঐতিহ্যবাহী অ্যাম্বাসাডর ট্যাক্সি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, অন্যদিকে সমস্যায় পড়েছেন চালক ও মালিকরা। ইতিমধ্যে শহরের ট্যাক্সি মালিক এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলি এই নিয়ম পরিবর্তনের দাবিতে পরিবহন মন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে।
কলকাতায় বর্তমানে মোট ১২,০০০ হলুদ ট্যাক্সি রয়েছে। তবে লকডাউনের পর নিয়মিত রাস্তায় নামে মাত্র ৫,৫০০টি ট্যাক্সি। এর মধ্যে আড়াই হাজার ট্যাক্সি খুব শীঘ্রই বাতিল হতে চলেছে। ট্যাক্সি চালক কিশোর ঘোষের মতো বহু মানুষ এই নিয়মের কারণে পথে বসার শঙ্কায় রয়েছেন।


একটি ট্যাক্সি কমপক্ষে পাঁচটি পরিবারের অন্নসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত। ফলে আড়াই হাজার ট্যাক্সি বাতিল হলে শুধু চালকরা নন, ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাঁদের পরিবারও।
হলুদ ট্যাক্সি বাঁচানোর লক্ষ্যে মুম্বইয়ের উদাহরণ সামনে এনেছে ট্যাক্সি সংগঠনগুলি। মুম্বই একসময়ে ফিয়াট প্রিমিয়ার পদ্মিনী মডেলের ট্যাক্সি ব্যবহার করত। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেখানে নতুন মডেলের গাড়িকে ট্যাক্সি হিসেবে চালু করা হয়েছে।
ঠিক তেমনটাই কলকাতায় করার প্রস্তাব দিয়েছে AITUC অনুমোদিত ট্যাক্সি শ্রমিক কর্মচারী সংগঠন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অ্যাম্বাসাডর মডেলের নতুন গাড়ি বাজারে নেই। তাই রাজ্য সরকারের উচিত অন্যান্য মডেলের গাড়িকে হলুদ ট্যাক্সি হিসেবে অনুমোদন দেওয়া।


কলকাতার ঐতিহ্যবাহী হলুদ ট্যাক্সি রক্ষায় বেঙ্গল ট্যাক্সি অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। রাজ্য সরকার যাত্রী সাথী অ্যাপ চালু করার মতো প্রকল্পের সাফল্যের কথা মাথায় রেখে, এবার ট্যাক্সির জন্য নতুন মডেল গ্রহণের বিষয়ে বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে।
যদিও ট্যাক্সির পারমিট অক্ষুণ্ন থাকবে, তবে অ্যাম্বাসাডর মডেল আর উৎপাদিত না হওয়ায় মালিকদের পক্ষে নতুন গাড়ি কেনা প্রায় অসম্ভব। বিকল্প মডেলের গাড়িকে ট্যাক্সি হিসাবে স্বীকৃতি না দিলে, শহরের যান চলাচলের চাহিদা মেটানো কঠিন হবে।








