নজরবন্দি ব্যুরোঃ মঙ্গলবার মুম্বই সফরে উপস্থিত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে তাঁর। বুধবার বিকেলে মমতা-পাওয়ার বৈঠকের আগে বিস্ফোরক এনসিপি নেতা নবাব মালিক। তিনি জানিয়েছেন, কংগ্রেস ছাড়া বিজেপি-বিরোধী জোট অসম্ভব।
আরও পড়ুনঃ গান্ধী মুর্তির পাদদেশে দোলা-শান্তাদের ধর্না, উপস্থিত বাকি সাংসদরাও
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এনসিপি প্রধানের বৈঠকের আগেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তিনি বলেন, মেঘালয়ের কয়েকজন কংগ্রেস বিধায়ক তৃণমূলে যোগদান করেছেন। গোয়াতেও তৃণমূলের অস্তিত্ব রয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক দলের বিস্তারের অধিকার রয়েছে। তবে কংগ্রেসকে বাইরে রেখে বিরোধী জোট সম্ভব নয়”।
চলতি বছরে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরেই সারা দেশে মোদি বিরোধী জোট গড়ে তুলতে তৎপর হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলা থেকে বেরিয়ে এবার ভিন রাজ্যেও সাংগঠনিক বিস্তার করতে শুরু করেছে তৃণমূল। কিন্তু বিরোধী ঐক্য তৈরি করতে গিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে ফেলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক রাজ্য থেকে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বদের তৃণমূল শিবিরে যোগদান করাচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, কংগ্রেসে ভাঙন ধরিয়ে আসলে বিজেপির জয়ের রাস্তা সহজ করছেন না তো মমতা?
এনসিপি নেতা নবাব মালিকের কথায়, ২০২৪ এর আগে বিরোধী ঐক্য গড়ে তুলতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কংগ্রেস ছাড়া এই মুহুর্তে বিজেপি বিরোধী জোট সম্ভব নয়। একই মত পোষন করেছেন শরদ পাওয়ার নিজেও। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, বাংলার বাইরে সংগঠন বিস্তার করলেও কংগ্রেস ছাড়া কোন ফর্মুলায় দেশের সমস্ত আসনে বিরোধী সঙ্গীদের পাবে তৃণমূল? সেক্ষেত্রে কংগ্রেসের থাকা জরুরী।

দিল্লি থেকে মমতার সাফ বক্তব্য ছিল, প্রতিবারেই সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের কোনও প্রয়োজন নেই। এমনকি সংসদের কক্ষেও আলাদা রণনীতি নিয়েছেন তৃণমূল সাংসদরা। একই ইস্যুতে আলাদা আলাদা করে সরব হয়েছেন ডেরেক, সৌগত, প্রসূণরা। তাঁর থেকেই স্পষ্ট, দুই শিবিরের মধ্যে ধরা চিড় এখন ফাটলে পরিণত হয়েছে।
কংগ্রেস ছাড়া বিজেপি-বিরোধী জোট অসম্ভব, এনসিপি নেতার মন্তব্যে উত্তাল

শোনা যাচ্ছে ২০২৪ এর জন্য ব্লু প্রিন্ট তৈরির কাজ শুরু করেছে ঘাসফুল নেতৃত্ব। দলের আগামী ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হবে দিল্লীতে। দলের সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি দলীয় সংবিধানে বদল আনতে চলেছেন তাঁরা। তবে শরদ পাওয়ারের মতো বর্ষীয়ান নেতাকে ছাড়া এগোতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মহারাষ্ট্রের সরকারের দিকে তাকিয়ে আগামী দিনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের সমাপন ঘটাবেন ৮০ বছরের দুঁদে রাজনীতিবীদ? যদিও রাজনীতি সম্ভবনাময়।



