গত সোমবার পৌরসভার কাজে নিয়ে মারাত্মক ভাবে ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নের সভা ঘরে বসেই একের পর এক বিস্ফোরক কথা বলতে থাকেন। তিনি বলেন, “আমার কথা কিছুটা তিক্ত লাগবে। কিন্তু আমি বেশ কিছুদিন ধরেই দেখছি গোটা বিষয়টা। কোথাও কোন এনকোচমেন্ট হলে, সঙ্গে সঙ্গে কেন অ্যাকশন নিচ্ছি না? কেউ কেউ টাকা খেয়ে কাজ করছে।” সল্টলেকের ফুটপাতের দোকান, থেকে শুরু করে গড়িয়াহাটের রাস্তার ধারের দোকান, সব যায়গার কথা নাম করে করে উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ শপথ নিয়ে জটিলতা অব্যাহত, বিধানসভায় ধর্নায় বসলেন সায়ন্তিকা-রায়াত
মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “সল্টলেকের অবস্থা দেখে আমার লজ্জা লাগছে। রাজারহাটেও শুরু হয়েছে। সুজিত বোসের লোক বসাচ্ছে, প্রতিযোগিতা করে। এর জন্য কত টাকা দিতে হচ্ছে? একটা করে ত্রিপল লাগাচ্ছে বসে পড়ছে, হোয়াই হোয়াই? কেন সল্টলেকের কাউন্সিলররা কাজ করেন না, তাঁরা তো ইলেক্টেড বডি?”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যের পরই দেখা যায় ‘অ্যাকশনে’ নেমে পড়ে পৌরসভা-পুলিশ। প্রথমে এলাকা এলাকায় ঘুরে পুলিশ কর্তারা দোকান সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সল্টলেকের কলেজ মোড় থেকে শুরু করে গোদরেজ ওয়াটার সাইট পর্যন্ত, আলিপুর, গড়িয়াহাট চত্বর সব চষে বেড়ান পুলিশ কর্তারা। দোকানদারকে সতর্ক করা হয়। দোকান সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু তা না হওয়ায় একদিনের মধ্যেই বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।

এই বুলডোজার চালানো নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বাংলা পক্ষ। মমতা বন্দোপাধ্যায় কে এক বার্তায় বাংলা পক্ষের পক্ষ থেকে কৌশিক মাইতি জানিয়েছেন, “আপনি মহাকরণ থেকে ঐতিহাসিক বক্তব্য রেখেছেন এবং বাঙালির মনের কথা বলেছেন। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই৷ “বাংলার আইডেন্টিটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে“, “বাইরের রাজ্য থেকে এসে বাংলার ফুটপাথ ও সরকারি জমি দখল করছে“, “বাংলাকে আরও ৫ টা রাজ্যকে খাওয়াতে হচ্ছে”, “শহর গুলোয় বাংলা ভাষা বলা মানুষ কমে যাচ্ছে”- ইত্যাদি অত্যন্ত বাস্তব ও সত্য কথা বলেছেন বাংলা ও বাঙালির স্বার্থে।”

তিনি আরও লিখেছেন, “আপনাকে(পড়ুন মুখ্যমন্ত্রীকে) অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে কলকাতা, সল্টলেক সহ বাংলার নানা জায়গায় পুলিস হকার উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছে, কিন্তু তারা কাদের উচ্ছেদ করছে? সল্টলেক ও গড়িয়াহাটে ৪০-৪৫ বছরের পুরানো বাঙালি হকারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রান্তে বাঙালি তথা ভূমিপুত্র হকারদের উপর আক্রমণ নামছে। নিউ মার্কেট, বড় বাজার, খিদিরপুর, রাজাবাজার, শিলিগুড়ি, সল্টলেক, আসানসোল, খড়গপুর, হাওড়া, ব্যারাকপুরে যারা বাংলার আইডেন্টেটি নষ্ট করছে, বাইরের রাজ্য থেকে এসে যারা বাংলার ফুটপাথ ও সরকারি জমি দখল করছে- তাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান হচ্ছে না।
বেছে বেছে বাঙালি হকারদের উচ্ছেদ, বহিরাগতদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নয় কেন?

পরিকল্পিত ভাবে বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের উচ্ছেদ করছে স্বার্থান্বেষী কিছু আমলা, পুলিস এবং রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা৷ এই আঘাত বাঙালি তথা ভূমিপুত্ররা মেনে নেবেনা। আপনার কাছে একান্ত অনুরোধ বেছে বেছে বহিরাগত দখলদার উচ্ছেদ করুন এবং যারা আপনার নির্দেশ বিকৃত করছে তাদের নিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন।



