আন্দোলনে কিছু যায় আসে না! ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরাবে না বিজেপি, ৫টি কারণ জানলে চমকে যাবেন

ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানো মানেই বিজেপির জন্য আত্মঘাতী। নির্বাচনী কৌশলবিদ, মোদী-শাহর ঘনিষ্ঠ, OBC ভোটব্যাঙ্ক— রইল সেই ৫টি বড় কারণ, যার জন্য ইস্তফা দিতে বাধ্য করছে না দল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নয়াদিল্লি: ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) টানা ৩৪ দিনের আন্দোলন, সোনম ওয়াংচুকের অনশন, সংসদে বিরোধীদের তুমুল বিক্ষোভ— সবকিছুর মধ্যেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে (Dharmendra Pradhan) সরানোর কোনও ইঙ্গিত দিচ্ছে না বিজেপি (BJP)। প্রশ্ন উঠছে, কেন? ধর্মেন্দ্র প্রধান তো আর কোনও ক্রাউড-পুলার নেতা নন, জনপ্রিয়তার শীর্ষেও নেই। তাহলে কেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) বা বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব এই এক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না? এর পেছনে লুকিয়ে থাকা ৫টি বড় কারণ এখানে বিশ্লেষণ করা হলো।

১. বিজেপির অন্দরের ‘মাস্টারমাইন্ড’
ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সবাই শিক্ষামন্ত্রী হিসেবেই চেনেন। কিন্তু তাঁর আসল পরিচয়— বিজেপির অন্যতম সেরা নির্বাচনী কৌশলবিদ (Election Strategist)। বিহার (Bihar), উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh), হরিয়ানা (Haryana), ওড়িশা (Odisha)-সহ একাধিক রাজ্যে বিজেপির সাফল্যের পেছনে তাঁর নির্বাচনী কৌশল বড় ভূমিকা রেখেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করেন, ধর্মেন্দ্রর স্ট্র্যাটেজি ছাড়া বিহার ও ওড়িশা জেতা সম্ভব হত না। তাই শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিলে সংগঠনের ভিতই নড়ে যেতে পারে।

২. মোদী-শাহর ‘ভেতরের লোক’
ধর্মেন্দ্র প্রধান কখনও বেশি লাইমলাইটে না এলেও, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর (Amit Shah) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এই ‘ইনার সার্কেল’-এর অংশ হওয়ায় সাধারণ মন্ত্রীদের থেকে তাঁর প্রভাব অনেক বেশি। দলের ভেতরে-বাইরে এই সমীকরণ তাঁকে প্রায় ‘অপসারণযোগ্য’ করে তুলেছে।

৩. ‘ইউপিএ নয়, এনডিএ সরকার’
মোদী সরকারের একটা অলিখিত নীতি হলো— কোনও পরিস্থিতিতেই কোনও মন্ত্রীকে চাপের কাছে হার মেনে ইস্তফা দিতে দেওয়া হবে না। ২০২৫ সালে ললিত মোদী (Lalit Modi) বিতর্কের সময় স্বয়ং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) বলেছিলেন, “এটা ইউপিএ (UPA) সরকার নয়, এনডিএ (NDA) সরকার। এখানে পদত্যাগ হয় না।” এই নীতিই আজ ধর্মেন্দ্র প্রধানের সুরক্ষাকবচ।

৪. ফেলিওরের স্বীকারোক্তি
শুধু নিট (NEET) কাণ্ড দেখলে হবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জাতীয় শিক্ষানীতি (National Education Policy) এবং জাতীয় টেস্টিং এজেন্সি (National Testing Agency)। এই গোটা পরিকাঠামো কেন্দ্রের অন্যতম বড় প্রকল্প। এখন ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানো মানে, বিরোধীদের চাপে কেন্দ্র নতিস্বীকার করল— এই বার্তাটাই প্রতিষ্ঠিত হবে। আর সেটা মোদী সরকারের শক্তিশালী ইমেজের পক্ষে আত্মঘাতী।

৫. পূর্ব ভারতের OBC মুখ
ধর্মেন্দ্র প্রধান পূর্ব ভারতের (Eastern India) মধ্যে বিজেপির সর্বোচ্চ OBC নেতা। বিহার ও ওড়িশার মতো রাজ্যে OBC এবং ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস ভোটারদের মধ্যে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তাঁকে সরানো মানে, ওই সমস্ত ভোটারের একটা বড় অংশ বিজেপির থেকে মুখ ফেরাতে পারে। বিশেষ করে আগামী দিনের ভোট-অঙ্কে সেটা বড় ধাক্কা হতে পারে।

শেষ কথা, যতই আন্দোলন হোক, বিজেপির কাছে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানো মানে শুধু একজন মন্ত্রীর অপসারণ নয়— সেটা দলের ভোট-কৌশল, আঞ্চলিক সমীকরণ ও কেন্দ্রীয় নীতি— সবকিছুর ওপর কুঠারাঘাত। তাই ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট আসতে পারে, কিন্তু ইস্তফা নয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন