নজরবন্দি ব্যুরোঃ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পরিচিত অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ প্রায় কুড়ি কোটি টাকা। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তদন্ত চলাকালীন এই বিপুল পরিমাণে টাকা উদ্ধার হয়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুনঃ কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে পার্থকে? যাত্রাপথ ঘিরে জল্পনা
তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে মাত্র তিনটি কথা লিখেছেন। ‘এটা তো শুধু ট্রেলার। পুরো ছবি এখনও বাকি।’ শুভেন্দুর টুইটের কয়েক ঘণ্টা পরেই গ্রেপ্তার করা হয় পার্থকে। অপর দিকে এই ঘটনার পরেই দলের অন্দরে উঠেছে পদত্যাগের দাবি।
দলের অভিষেক ঘনিষ্ঠরা বলতে শুরু করেছেন, কেন আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাওয়াই দল কার্যকর করল না? অভিষেক যখন নির্দিষ্ট কারণে নির্দিষ্ট কিছু মুখকে মন্ত্রিসভা ও দলের বড় পদ থেকে সরাতে বলেছিলেন, তখন সেই কথা শোনা হয়নি।

উলটে অভিষেককেই কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছিল। তখন এই পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং আরও জনাকয়েক সিনিয়র তৃণমূল নেত্রীর উপর প্রভাব খাটিয়ে দলের দখলদারি নিতে গিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ভোটের পর এই ধরনের ইস্যুতেই শপথ বয়কট করেন অভিষেক ।

তাঁর কাছে কয়েকজন নেতা সম্পর্কে তথ্য আসতে শুরু করে। সব খতিয়ে দেখে অভিষেক ঠিক করেন কিছু মুখকে সরিয়ে দিয়ে নতুন মুখ সামনে আনা হবে।

কেন মানা হয়নি অভিষেকের দাওয়াই? পার্থ গ্রেফতারের পর দলের অন্দরে উঠছে প্রশ্ন
এই উদ্যোগ ভেস্তে দিতে মরিয়া হন কিছু সিনিয়র। কিন্তু এখন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কারণে যেভাবে দলকে ডুবতে হল, তাতে ইমেজ ফেরানো কঠিন কাজ বলে মনে করছে দলের বড় অংশ। অন্যদিকে দলের অন্দরে অনেকেই বলতে শুরু করেছেন কি ভাবে কত কষ্ট করে দলকে ফের দাঁড় করিয়েছিলেন অভিষেক। কত ভালো ২১এ জুলাই সমাবেশ হল।
সবটাই জলে গেল পার্থ বাবুর জন্য। এই মুহূর্তে দলের অন্দরে জোড় জল্পনা চলছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সব মন্ত্রীরা ইস্থফা দিন। নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হোক। আর অভিষেকের কথা মেনে যে গুটি কয়েক নেতা নিজেদের স্বার্থে দলকে ব্যবহার করছে তাদের নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে হয়তো এই বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাবে দল ও সরকার।



