ছোটবেলা থেকেই চাঁদের সাথে আমাদের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মনের মধ্যে যতই দুঃখ চেপে থাকুক চাঁদের মিষ্টি মুখের দিকে তাকালে নিমিষেই সব দুঃখ ঘুচে যায়। এছাড়াও চাঁদে বুড়ির চরকা কাটার মতো নানা কাহিনী ছোটবেলা থেকেই আমরা শুনে থাকি। বিশেষ করে প্রেমিক যুগলের মাঝে পৃথিবীর যত রোমান্টিক বস্তু-বিষয় রয়েছে তার মধ্যে চাঁদের অবদান অনস্বীকার্য। এছাড়াও একটা ব্যর্থ প্রেমিকের কাছে চাঁদই হয় তার শেষ সঙ্গী। কারণ সে বুঝতে শেখে চাঁদকে ভালবাসলে সে কখনও তাকে ছেড়ে চলে যাবে না।
আর এইরকম ভালোবাসা সম্ভবত বুকে নিয়েই ও চাঁদকে ছুঁয়ে দেখার আকাঙ্ক্ষা কে সাথে নিয়েই আজ থেকে ৫৩ বছর আগে ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই রহস্যে ঘেরা এই চাঁদেই পা রেখেছিল নীল আর্মস্ট্রং এবং এডউইন অলড্রিন। অ্যাপোলো ১১ মিশন দ্বারা প্রথম কোনো মানুষ চাঁদে অবতরণ করেছিল। যার মধ্য দিয়ে মহাকাশ গবেষণার দিগন্ত খুলে গিয়েছিল। আর তাই চাঁদে মানুষের প্রথম অবতরণের বার্ষিকীকে সম্মান জানাতে ২০ জুলাইকে আন্তর্জাতিক ‘চাঁদ দিবস’ হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।

মহাকাশ গবেষণায় এই ঘটনা ছিল একটি মাইলস্টোন। ১৯৬৯ সালে ২০ জুলাইয়ে ঠিক রাত ৮টা ১৭ মিনিটে অ্যাপোলো ১১ মহাকাশযান নেমেছিল চাঁদে। তারপর প্রায় ৬ ঘণ্টা পরে মহাকাশযান থেকে বেরিয়ে চাঁদের মাটিতে পা রেখেছিলেন নভোচর নীল আর্মস্ট্রং। তারপর বেশ কিছুক্ষণ পরে চাঁদের মাটিতে পা রাখেন আর এক সঙ্গী এডউইন অলড্রিন। আর্মস্ট্রং ও অলড্রিন চাঁদের মাটিতে সব মিলিয়ে ২১ ঘণ্টা ধরে সেখানের আবহাওয়া, জলবায়ু সম্পর্কে বোঝার চেষ্টা করেন। এছাড়াও দুজনে মিলে চাঁদের মাটি থেকে ২১.৫ কেজি পদার্থ পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করেছিলেন। সেখান থেকে তাঁরা পৃথিবীর ছবিও ক্যামেরা বন্দি করে। তারপর তাঁরা কম্যান্ড মডিউলে ফিরে যান। এরপর সেখান থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসেন তাঁরা।
২০ জুন কেন পালিত হয় চাঁদ দিবস? জানুন বিস্তারিত

এই বিশেষ কারণেই এই সাফল্য পূর্ণ দিনটিকে চির স্মরণীয় করতেই ইউনাইটেড নেশনসের জেনারেল অ্যাসেম্বলি ২০২১ সালে তাদের ‘বাহ্যিক মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা’ সংক্রান্ত রেজোলিউশনে আন্তর্জাতিক ২০ জুলাই দিনটিকে ‘চাঁদ দিবস’ ঘোষণা করে।



