সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচন শেষে তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। আগামী পাঁচ বছর দেশের রাশ থাকবে তাঁর হাতেই। এই মুহূর্তে মোদির বয়স ৭৩। পাঁচ বছর পর তাঁর বয়স হবে ৭৮। ফের যদি একবার বিজেপি ক্ষমতায় আসে তাহলে কি নরেন্দ্র মোদিই চতুর্থবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হবেন নাকি এবার অন্য কাউকে এই ‘গুরুভার’ দেবে পদ্ম-শিবির? এখন থেকেই কিন্তু শুরু হয়ে গেল আলোচনা।
এবারের লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বিজেপি। ৪০০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২৪০ আসনেই থেকে গিয়েছে বিজেপির বিজয় রথ। শরিক দলদের সাহায্য নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এনডিএ সরকার। নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তাও কিছুটা কমেছে বলে দাবি করে থাকেন বিরোধীরা। আর শুধু দাবি কেন, এবারের নির্বাচনের ফলাফল দেখলে তা কার্যত পরিষ্কার। ২০১৯ সালের লোকসভায় যেখানে বারাণসী কেন্দ্র থেকে ৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ভোটে জিতেছিলেন মোদি, সেখানে এবার জিতেছেন ১ লক্ষ ৫২ হাজার ভোটে। এক ধাক্কায় ভোটব্যবধান ৩ লক্ষ কমেছে।
এই নিয়ে টানা তিন নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদিই ছিলেন বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী। একেবারে আগে থেকেই ঘোষিত। তাঁর নামেই স্লোগান, তিনিই দেশের সর্বত্র তারকা প্রচারক হিসাবে ছুটে বেরিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদির বিকল্প কি আজও রয়েছে বিজেপির কাছে? এটা সত্যি কঠিন প্রশ্ন। ভারতের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বয়সে প্রধানমন্ত্রী হন জনতা দলের মুরারজী দেশাই, ৮১ বছরে। ফলে, চাইলে নরেন্দ্র মোদিও ২০২৯ সালের ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রী হতেই পারেন। কিন্তু, তিনি যদি আর দায়িত্ব না নিতে চান, তাহলে?
প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে মোদির পর সবচেয়ে জোরালো হিসাবে যে নামটা উঠে আসে তিনি হলেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মোদির সঙ্গে ‘অভিন্নহৃদয়’ বন্ধুত্ব তাঁর। জনপ্রিয়তাও একেবারে কম নয়। কিন্তু, অমিত শাহ কি চান মোদি-পরবর্তীক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী হতে? জানালেন নিজেই। রবিবার, চণ্ডীগড়ের একটি সভায় অমিত শাহ সাফ জানিয়েছেন, “২০২৯ সালে ফের একবার ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। আর চতুর্থবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হবেন নরেন্দ্র মোদি।”



