কোন বিরল পাথরে নির্মিত অযোধ্যার রামলালা? বিগ্রহ তৈরিই বা করলেন কে? জানুন বিস্তারিত

রামমন্দিরের বিগ্রহ নির্মাণের জন্য মোট তিনজন ভাস্করকে দায়িত্ব দেয় রামমন্দির ট্রাস্ট। এই তিন ভাস্কর হলেন, মহীশূরবাসী অরুণ যোগীরাজ, বেঙ্গালুরুর গণেশ ভাট এবং রাজস্থানের সত্য নারায়ণ পাণ্ডে। এই তিনজনই তৈরি করেন তিনটি পৃথক রামলালার মূর্তি। এরপর সেরা বিগ্রহটিকে বেছে নেয় ট্রাস্ট।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

২২ জানুয়ারি ২০২৪। ইতিহাস রচিত হল সরযূ নদীর তীরে। অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর হাতেই প্রাণপ্রতিষ্ঠা হল রামলালার বিগ্রহের। রামমন্দিরের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে উদ্বেলিত গোটা দেশ। সবার চোখ ছিল অযোধ্যার দিকে। কিন্তু জানেন কি, এই রামলালার বিগ্রহ নির্মিত হয়েছে বিরল একটি পাথরের মাধ্যমে। তৈরি করেছেন কে? না জানলে এই প্রতিবেদন আপনার জন্য।

আরও পড়ুন: অযোধ্যায় মোদীর হাতে রচিত হল নতুন ইতিহাস, বালুরঘাটে রামের পুজো দিলেন সুকান্ত

আসলে, রামমন্দিরের বিগ্রহ নির্মাণের জন্য মোট তিনজন ভাস্করকে দায়িত্ব দেয় রামমন্দির ট্রাস্ট। এই তিন ভাস্কর হলেন, মহীশূরবাসী অরুণ যোগীরাজ, বেঙ্গালুরুর গণেশ ভাট এবং রাজস্থানের সত্য নারায়ণ পাণ্ডে। এই তিনজনই তৈরি করেন তিনটি পৃথক রামলালার মূর্তি। এরপর সেরা বিগ্রহটিকে বেছে নেয় ট্রাস্ট। আর সেই বিগ্রহটি বানিয়েছিলেন মহীশূরবাসী যোগীরাজ। তাঁর হাতে তৈরি মূর্তিই আজ ‘প্রাণ’ পেল ‘প্রধান যজমান’ নরেন্দ্র মোদীর হাতে।

কোন বিরল পাথরে নির্মিত অযোধ্যার রামলালা? বিগ্রহ তৈরিই বা করলেন কে? জানুন বিস্তারিত
কোন বিরল পাথরে নির্মিত অযোধ্যার রামলালা? বিগ্রহ তৈরিই বা করলেন কে? জানুন বিস্তারিত

মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে নির্দেশ ছিল, রামলালাকে ৫ বছর বয়সী বাচ্চা ছেলের মতো নির্মাণ করতে হবে। সেই অনুযায়ীই বানান যোগীরাজ। তিনি ব্যবহার করেন কর্ণাটকের মহীশুর জেলার এইচডি কোট তালুকের বুজ্জেগৌদানাপুরা গ্রামের বিরল কৃষ্ণ শিলা পাথর। এই পাথরের বিশেষত্ব, এটি প্রথমে নরম থাকে, ২-৩ বছর লাগে শক্ত হতে। সেই পাথর ব্যবহার করেই নিখুঁত ভাবে বিগ্রহটি তৈরি করেছেন যোগীরাজ।

কোন বিরল পাথরে নির্মিত অযোধ্যার রামলালা? বিগ্রহ তৈরিই বা করলেন কে? জানুন বিস্তারিত

কৃষ্ণশিলা বলে পরিচিত হলেও এই পাথরের আসল নাম ‘নেল্লিকারু’ শিলা। দক্ষিণ ভারতে এখনও বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি নির্মাণে এই পাথর ব্যবহার করা হল। ভগবান কৃষ্ণের গায়ের রঙের মতোই এই পাথরের রঙ কালো, তাই একে ‘কৃষ্ণশিলা’ বলা হয়। পাথরের ব্লকটিতে প্রথমে নকশাকে খোদাই করা হয় এবং পরে বিভিন্ন আকারের চিসেল ব্যবহার করে সূক্ষ ডিজাইন ফুটিয়ে তোলা হয়। ব্যবহার করা হয় ছেনি, হাতুড়ি।

কোন বিরল পাথরে নির্মিত অযোধ্যার রামলালা? বিগ্রহ তৈরিই বা করলেন কে? জানুন বিস্তারিত

উল্লেখ্য, রামমন্দিরের রামলালার বিগ্রহটির ওজন ১৫০-২০০ কেজি। সেখানে দন্ডায়মান অবস্থায় দেখানো হয়েছে রামলালাকে। বিগ্রহের উচ্চতা ৫১ ইঞ্চি। অরুণ যোগীরাজ অযোধ্যায় গত ছয় থেকে সাত মাস থেকে দৈনিক প্রায় ১২ ঘণ্টা করে কাজ করে অদ্ভুত সুন্দর এই বিগ্রহটি তৈরি করেছেন।

কোন বিরল পাথরে নির্মিত অযোধ্যার রামলালা? বিগ্রহ তৈরিই বা করলেন কে? জানুন বিস্তারিত

প্রসঙ্গত, অরুণ যোগীরাজের রক্তেই রয়েছে শিল্প। পাঁচ প্রজন্ম ধরে তাঁরা বিগ্রহ নির্মাণ করেন। তাঁর ঠাকুরদার বাবা মহীশূরের রাজাদের হয়েও কাজ করেছেন বলে জানা যায়। প্রতিষ্ঠার আগে রামলালার মূর্তিকে অলংকৃত করে রামমন্দির ট্রাস্ট। মাথায় দেওয়া হয় হীরের মুকুট, গলায় ও শরীরে সোনার গয়না দিয়ে সাজানো হয়। আজ উদ্বোধনের পর নরেন্দ্র মোদী ‘ক্ষমা’ চেয়ে নেন ‘প্রভু’ রামের কাছ থেকে এতদিন বিলম্ব হবার জন্য। তবে সত্য এটাই যে, অরুণ যোগীরাজের নির্মিত রামলালাই স্থান পেলেন অযোধ্যায়। এটা যে ভাস্কর হিসাবে খুব কম অর্জন নয় তা বলাই বাহুল্য।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত