নজরবন্দি ব্যুরোঃ বেশ কয়েক দিন ধরেই গরুপাচার মামলায় টানাপড়েন চলছে অনুব্রতকে নিয়ে। ২০২১ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে গরুপাচার মামলায় অনুব্রতকে দেখা করার জন্য নোটিস পাঠাচ্ছে বারবার। মোট ১০ বারের ডাকে অনুব্রত সাড়া দিয়েছেন মাত্র এক বার। বাকি ন’বারের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গরহাজির থেকেছেন কেষ্ট। কিন্তু আজ আর শেষ রক্ষা হলনা।
আরও পড়ুনঃ ‘চোর’ স্লোগানে মুখরিত আদালত চত্বর, কেষ্টকে ১৪ দিন হেফাজতে চাইল CBI


নিজেকে অসুস্থ প্রমান করতে তিনি কখনও গিয়েছেন বীরভূমের মহকুমা হাসপাতালে, কখনও এসএসকেএম। সোমবার সেই এসএসকেএম তাঁকে ফিরিয়ে দেয়। বীরভূমের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা বাড়ি এসে যে বেড রেস্টের পরামর্শ দিয়েছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিবিআই এড়াতে অসুস্থতাকে আর ঢাল করা যাবে না বুঝেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন অনুব্রত। কিন্তু কে এই অনুব্রত ওরফে কেষ্ট?

তিনি বিধায়ক নন, সাংসদ নন, মন্ত্রী নন। কিন্তু তারপরও বীরভূমে তাঁর নামে বাঘে–গরুতে একঘাটে জল খায়। নির্দিষ্ট জেলায় রাজনীতি করা একজন মানুষ হয়েও রাজ্যের সবার কাছে পরিচিত কেষ্ট বলেই। তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব প্রশ্নাতীত। গুড় বাতাসা, চড়াম চড়াম ঢাক, পাচনের বারি, নকুল দানা থেকে শুরু করে পুলিশের গায়ে বোম মারার নিদান দেওয়া অনুব্রত এখন যেন ভিজে বেড়াল।


মুদি দোকান-মাছ ব্যবসা-প্রমোটারি থেকে তৃণমূল হেভিওয়েট নেতা, কে এই কেষ্ট?

অনুব্রতর বাবার নাম কৃপাসিন্ধু মণ্ডল। তাঁর মুদিখানার দোকান ছিল আর ছিল একটা গ্রিলের কারখানা। সেই মুদি দোকান একসময় সামলাতেন অনুব্রত। তাঁদের গ্রামের বাড়ি ছিল বোলপুর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে নানুর থানার হাটসেরান্দি গ্রামে। আর্থিকভাবেও তেমন সচ্ছল ছিল না অনুব্রতদের পরিবার। ছোট বেলায় বাবাকে সাহায্য করা ছাড়াও হাটে মাছ বিক্রি করতেন অনুব্রত। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে আর স্কুলে যাননি তিনি।

সদ্য প্রয়াত চিকিৎসক সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। পরে যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। এখন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি। এটুকুই তাঁর পরিচয়। অথচ অনেক মন্ত্রীর তুলনায় অধিক চর্চিত অনুব্রত। তাঁর মন্তব্য হয়ে যায় শিরোনাম। অনুব্রত সব থেকে পরিচিতি পেয়েছিলেন পুলিশের গাড়িতে বোম মারতে বলে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



