নজরবন্দি ব্যুরোঃ যারা আমাদের বেশি নিন্দা করছে, তৃণমূলের সেই সমালোচকদের গায়ের চামড়া দিয়ে পায়ের জুতো তৈরি হবে। এই দিন অপেক্ষা করছে। প্রকাশ্য সভা থেকে এই বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। বর্ষীয়ান সাংসদের এহেন মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় বইতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুনঃ অধ্যাপক না অপরাধী? এ তো ক্রিমিনাল দের ভাষা, সৌগতকে আক্রমণ সুজনের
গত কাল শনিবার বিরোধীদের মিছিল নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “যারা আমাদের বেশি নিন্দা করছে, তৃণমূলের সেই সমালোচকদের গায়ের চামড়া দিয়ে পায়ের জুতো তৈরি হবে। এই দিন অপেক্ষা করছে”। এই মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় শুর হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ বলেন,

“আমি একটুও অবাক নই, তাঁর এই বক্তব্য শুনে। অনেকদিন আগেই এঁদের দাঁত-নখ বেরিয়ে এসেছে নীচুতলার কর্মীদের থেকে। এবার বড়রা বের করছেন। রবিনা ট্যান্ডনের সঙ্গে ‘তু চিজ বড়ি’ নাচে যেভাবে তিনি কোমড় দুলিয়েছিলেন, তাতেই তিনি নিজের রুচি বুঝিয়েছিলেন। শিক্ষক হয়ে সেটা করতে পারলে, এটা বলা কোন বড় কথা! ইডি-সিআইডি এসে নেতাদের তলব করছে এটা তো ভাল নিদর্শন নয় কোনও রাজ্যের জন্যই। আর এই কাজ করতে উচ্চতর আদালত বলছে, কোনও দল, মানুষ বা কেন্দ্র সরকার নয়। আসলে এঁরা ভয় পেয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তে কামড় বসাতে চাইছে। বুঝতে পারছে এতদিন যা যা করেছে এবার কড়ায়-গণ্ডায় বুঝিয়ে দিতে হবে।”

অপর দিকে তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে অভিনেত্রী শ্রিলেখা মিত্র বলেন, “এগুলো কী ধরনের মন্তব্য! তাহলে তো বলতে হবে কতিপয় চটিচাটা ছাড়া সবার গায়ের চামড়া দিয়েই জুতো বানাতে হবে। তাপস পালও এর আগে এমন বলেছিল। এই ভাষা হচ্ছে খুনি-মস্তানদের ভাষা। মানুষ দেখুক, কাদেরকে নিয়ে এসেছে ভোটে জিতিয়ে।”
‘সমালোচকদের গায়ের চামড়া দিয়ে জুতো’ সৌগতর মন্তব্যে কি বলছেন রুদ্র-বাদশা-শ্রীলেখা

এই মন্তব্য নিয়ে অভিনেতা বাদশা মিত্রর সাফ জবাব, “একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ অভিপ্রেত নয়। নিজের দলের লোক যারা রাজ্যটাকে লুঠ করছে প্রতিদিন যদি চামড়া তুলতে হয়, তাদের তুলুন আগে। যাঁরা প্রতিবাদ করছেন তাঁদের চামড়া তুলে লাভ নেই। এতে প্রতিবাদ আরও বাড়বে।”



