পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা পর্যালোচনার এনুমারেশন পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাবে, রাজ্যজুড়ে মোট ৫৮ লক্ষ ৮ হাজার ২০২ জন ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে। মৃত, স্থানান্তরিত এবং নিখোঁজ ভোটারের সংখ্যা বাড়ার ফলে এই তালিকা আরও দীর্ঘ হয়েছে। তবে খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় সামান্য হেরফের হলেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে সূত্রের খবর।
কমিশন জানাচ্ছে, এ পর্যন্ত রাজ্যে ২৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৯৯ জন মৃত ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। পাশাপাশি ১২ লক্ষ ১ হাজার ৪৬২ জনকে ‘নিখোঁজ’ ধরা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ভোটারকে বাড়িতে তিন বার গিয়ে না-পাওয়া গেলে তাঁকে নিখোঁজ তালিকায় রাখা হয়।
এ ছাড়া ১৯ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮৭ জন ভোটারের ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছে। একাধিক জায়গায় নাম থাকায় একটি স্থানে রেখে বাকিগুলো থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। আরও ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫৭৫ জন ভোটারকে ‘ভুয়ো’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘অন্যান্য’ বিভাগে রাখা হয়েছে ৫৭ হাজার ৫০৯ জনকে— যাঁদের নামও বাদ পড়বে।

১৬ ডিসেম্বর প্রকাশ খসড়া তালিকা, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আসবে চূড়ান্ত তালিকা
আগামী ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে নতুন খসড়া ভোটার তালিকা। সেই তালিকায় কোনও ত্রুটি বা আপত্তি থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কমিশনকে জানাতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার পর শুনানির ভিত্তিতে নথি যাচাই করে তৈরি হবে চূড়ান্ত তালিকা, যা প্রকাশ পাবে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
সূত্র জানাচ্ছে, রাজ্যের ভোটারদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—
১. নিজস্ব ম্যাপিং
২. প্রজিনি ম্যাপিং
৩. নন-ম্যাপিং
২০০২ সালে যখন শেষবার এসআইআর হয়েছিল, সেই তালিকায় যাঁদের নাম ছিল, তাঁরা পড়েছেন ‘নিজস্ব ম্যাপিং’-এ— সংখ্যা ২ কোটি ৯৩ লক্ষ ৬৯ হাজার ১৮৮।
যাঁদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় না থাকলেও বাবা-মা বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের নাম আছে, তাঁরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ‘প্রজিনি ম্যাপিং’-এ— সংখ্যা ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ৯৩৯।
অন্যদিকে ৩০ লক্ষ ভোটার রয়েছেন যাঁদের নিজের বা আত্মীয়ের কারও নামই ২০০২ সালের তালিকায় নেই। এঁদের রাখা হয়েছে ‘নন-ম্যাপিং’-এ, এবং এই তালিকার প্রত্যেক ভোটারকেই শুনানিতে ডাকা হবে। তাঁদের জমা দেওয়া নথি পরীক্ষা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রথম দুই তালিকার ভোটারদের ক্ষেত্রেও সন্দেহ থাকলে শুনানিতে তলব করা হতে পারে।
এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ল সাত রাজ্যে, পশ্চিমবঙ্গে নয়
৪ নভেম্বর থেকে দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া। বৃহস্পতিবার সাতটি রাজ্যে সময়সীমা বাড়ানো হলেও পশ্চিমবঙ্গে আর সময় বাড়ানো হয়নি। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই রাজ্যে কাজ সম্পন্ন হবে।



