স্বাধীনতার ইতিহাসে বাঙালির অবদান কতটা গভীর ও রক্তাক্ত—তা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল বাংলার ট্যাবলো। ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসে দিল্লির কর্তব্যপথে বাংলার ট্যাবলোয় উঠে এল বিপ্লব, সাহিত্য ও আত্মত্যাগের এক অনন্য কোলাজ। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর ‘বন্দে মাতরম’ থেকে শুরু করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, বিনয়-বাদল-দীনেশ ও মাতঙ্গিনী হাজরা—স্বাধীনতার জন্য বাঙালির দীর্ঘ লড়াইকে এক ফ্রেমে তুলে ধরা হয়।
ট্যাবলোটি শুধু শিল্পকলা নয়, ছিল ইতিহাসের সাহসী পুনর্লেখন। কত রক্ত, কত আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলা স্বাধীনতার পথে হেঁটেছে—তারই দৃশ্যমান দলিল হয়ে উঠেছিল এই উপস্থাপনা।


জটিলতা পেরিয়ে কর্তব্যপথে বাংলা
এ বারও বাংলার ট্যাবলো নিয়ে জটিলতা কম হয়নি। নানা টানাপোড়েন ও রাজনৈতিক চাপের পর শেষ পর্যন্ত ১৭টি রাজ্যের মধ্যে বাংলার ট্যাবলো সগৌরবে জায়গা করে নেয় কর্তব্যপথের কুচকাওয়াজে। এই উপস্থিতি শুধু সাংস্কৃতিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
কারণ, আর কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ সম্বোধন ঘিরে বিতর্কে উত্তাল হয়েছিল বাংলা। বারবার অভিযোগ উঠেছে—গেরুয়া শিবির বাংলার মনীষী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যথাযথ সম্মান দেয় না। সেই আবহে কর্তব্যপথে বঙ্কিমচন্দ্রকে কেন্দ্র করে বাংলার ট্যাবলো নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা বহন করছে।
‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর ও জাতীয় ক্যানভাস
এ বছর ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্রের তরফেও বিশেষ ট্যাবলো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। মোট ৩০টি ট্যাবলোয় দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নানা অধ্যায় তুলে ধরা হয়।


ট্যাবলোর সারিতে প্রথমেই ছিল গুজরাট। সেখানে মহাত্মা গান্ধী ও ভিকাজি কামা-কে সামনে রেখে স্বাধীনতা আন্দোলনে গুজরাটের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
ছত্তিশগড়ের ট্যাবলোয় উঠে আসে স্বাধীনতা সংগ্রামে আদিবাসী যোদ্ধাদের অবদান—তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বিস্মৃত ইতিহাস। তামিলনাড়ুর ট্যাবলোয় ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর সঙ্গে প্রাচীন সভ্যতা ও আধুনিকতার মেলবন্ধন দেখানো হয়। কেরল, মহারাষ্ট্র, নাগাল্যান্ড, জম্মু-কাশ্মীরের ট্যাবলোও ছিল দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
সবচেয়ে ব্যতিক্রমী সংযোজন—এই প্রথমবার কর্তব্যপথে দেখা গেল বলিউডকে কেন্দ্র করে তৈরি একটি ট্যাবলো, যা দেশের সাংস্কৃতিক বহুত্বকে নতুন মাত্রা দিল।
সব মিলিয়ে, কর্তব্যপথের কুচকাওয়াজে বাংলার ‘বঙ্কিম’ ট্যাবলো শুধু একটি রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব নয়—তা ছিল স্বাধীনতার ইতিহাসে বাঙালির রক্তাক্ত, গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের জোরালো পুনরুচ্চারণ।
ভিডিও টি দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন







