ইদের উৎসবের ঠিক আগে আচমকা থমকে গেল ভোটার তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া—প্রশাসন, কমিশন ও আদালতের একাধিক বৈঠকের পরও স্পষ্ট নয় শুক্রবার আদৌ প্রকাশ হবে কি না প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা। নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট উদ্বেগই কি এই অনিশ্চয়তার আসল কারণ? রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
পবিত্র ইদের প্রাক্কালে কোনও ধরনের অশান্তি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি এড়াতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য প্রশাসন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আপত্তি তোলা হয়েছে এই সময়ে সংবেদনশীল ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়ে। ফলে বৃহস্পতিবার সারাদিন দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হলেও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত হাই কোর্টের উপরেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।


বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। সেখানে ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের তালিকা প্রকাশের আগে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এরপর বিকেলে আবার জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল এবং বিশেষ পর্যবেক্ষকরা। সেই বৈঠকেও তালিকা প্রকাশ নিয়ে আলোচনা হলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি বলেই জানা গিয়েছে।
হাই কোর্ট থেকে ফেরার পর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়াল এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের সঙ্গে আরও একটি বৈঠক হয়। ধারাবাহিক এই বৈঠকগুলির মূল বিষয় ছিল অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় ও প্রভাব।


বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটার রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২৪ লক্ষের তথ্য যাচাই ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় হাই কোর্ট নিযুক্ত ৭০০-র বেশি বিচারবিভাগীয় আধিকারিক কাজ করছেন। কমিশন সূত্রে আশাবাদ, এই গতিতে এগোলে ভোটের আগেই সমস্ত যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হলেও তা সম্পূর্ণ ছিল না। সেই তালিকায় প্রায় ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজারের বেশি ভোটারকে ‘যোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু বিপুল সংখ্যক ভোটার এখনও ‘বিবেচনাধীন’ অবস্থায় রয়েছেন।
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে এবং ফল ঘোষণা ৪ মে। পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা ছাড়া নির্বাচন পরিচালনা করা কার্যত অসম্ভব। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত নামের নিষ্পত্তি না হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।
এই অবস্থায় আদালতের নির্দেশই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা দ্রুততার সঙ্গে যাচাই চালাচ্ছেন। তবে যাঁদের নাম শেষ পর্যন্ত বাদ পড়বে, তাঁদের জন্য বিশেষ ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



