রাজ্যে SIR বা Special Intensive Revision শুরু হতেই রাজনৈতিক তরজার মাঝেই শুরু হয়েছে বাড়ি বাড়ি ভোটার যাচাইয়ের কাজ। রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল Election Commission। নির্দেশ স্পষ্ট—BLO বা BLA কেউই বাড়ির নাগরিকদের কাছে কোনও নথি চাইতে পারবেন না। তাঁরা কেবল এনুমারেশন ফর্ম দেবেন এবং তা সংগ্রহ করবেন।
প্রথম দিনেই কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৮ লক্ষ ফর্ম বিতরণ করেছেন বুথ লেভেল অফিসাররা। এটাই SIR-এর মূল ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া—বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার ফর্ম দেওয়া।
অনেক জায়গায় ফর্ম দেওয়ার সময় নাগরিকদের কাছ থেকে নথি চাইবার অভিযোগ উঠছে। বিরোধী দলগুলি দাবি করছে, এইভাবে মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। যদিও কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে কোনও নথির প্রমাণ লাগবে না। নাম না থাকলে বা সংশ্লিষ্টতা খুঁজে না পেলে তখন প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। কমিশন মোট ১৩ ধরনের নথি গ্রহণযোগ্য রেখেছে, যার মধ্যে যে কোনও একটি দাখিল করলেই হবে।
নির্বাচন কমিশনের মতে, এই নথিগুলি শুধু রিভিউয়ের সময় দেখা হবে। ফর্ম সংগ্রহের ধাপে কোনও নথি জমা বা যাচাই নয়। এই নির্দেশ রাজ্যবাসীর আশঙ্কা অনেকটাই কমিয়েছে, তবে মাঠ পর্যায়ে অভিযোগ থামছে না।
প্রশাসনিক নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত DEO, ERO এবং BLO-দের পূর্ণ সময় এই SIR কাজেই দিতে হবে। অনেক জায়গায় ফর্মের ঘাটতিতে কাজ আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বহু মানুষ নিজের EPIC number ব্যবহার করে সরকারি ওয়েবসাইট electoralsearch.eci.gov.in-এ গিয়ে নিজেদের BLO-র নাম ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করছেন।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তৎপরতা বেড়েছে। তৃণমূল বিভিন্ন জায়গায় মাইকিং করে নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তা দিচ্ছে, পাশাপাশি খুলেছে ভোট রক্ষা সহায়তা শিবির। তবে বিরোধীরা বলছে, মাঠে সরকারি নির্দেশ পালনে অসঙ্গতি রয়েছে।
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ৬৩,৯৪০ বুথ লেভেল এজেন্ট নিযুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বিজেপির ২৪,৮৫৮, তৃণমূলের ১৩,৫২৬, কংগ্রেসের ৫,৭৯৭, সিপিএমের ১৮,৭০৬ এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের ১,০৫৩ জন। তবে বাস্তবে অনেক বুথেই কোনও এজেন্টকে দেখা যায়নি বলে জানা গেছে। ফলে বহু জায়গায় BLO-রা একাই পুরো প্রক্রিয়া সামলাচ্ছেন।
মানুষের একাংশ এখনও বিভ্রান্ত। কেউ কেউ ভাবছেন তাঁরা হয়তো নথি না দিলে নাম কেটে যাবে। আবার অনেকে আশ্বস্ত হয়েছেন নির্বাচন কমিশনের বার্তায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, SIR শুধু ভোটার তালিকার মানোন্নয়ন এবং ভুল সংশোধনের একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক আবহে এটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই প্রক্রিয়া চলবে টানা কয়েক সপ্তাহ। এখন দেখার, মাঠ পর্যায়ের অভিযোগ ও আপত্তির মাঝে কতটা স্বচ্ছভাবে SIR সম্পন্ন করতে পারে নির্বাচন কমিশন।







