শীতের কামড় এবার সত্যিই টের পাওয়া যাচ্ছে বাংলায়। কুয়াশার চাদরে ঢাকা শহরে রবিবার ভোরে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে—৬ ডিসেম্বরের পর যা এই মরশুমের সর্বনিম্ন। তার আগের দিন সর্বনিম্ন ছিল ১৬.২ ডিগ্রি। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় দু’ডিগ্রি পতনে কাঁপুনি বেড়েছে শহরজুড়ে।
ঘন কুয়াশা, দিনভর স্যাঁতস্যাঁতে ঠান্ডা
শনিবারের পর রবিবারও টানা দ্বিতীয় দিন ঘন কুয়াশার ঘেরাটোপে বাংলা। রোদ না ওঠায় দিনভর ভেজা ঠান্ডার অনুভূতি বজায় ছিল। বেলা বাড়লেও দৃশ্যমানতা অনেক জায়গাতেই তলানিতে নেমে আসে। আবহাওয়াবিদদের মতে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবেই এই কুয়াশা ও তাপমাত্রা পতন।


উত্তরে তুষারপাত, প্রভাব বাংলায়
পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরে লাদাখে সকাল থেকেই তুষারপাত হয়েছে। কার্গিলে ২–৩ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষার জমেছে। এই শীতল হাওয়ার প্রভাবই ধীরে ধীরে পূর্ব ভারতের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে, যার প্রভাব বাংলার আবহাওয়ায় স্পষ্ট।
বিমান চলাচল স্বাভাবিক, তবে সতর্কতা
সকালে ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও। সকাল আটটার দিকে দৃশ্যমানতা ছিল প্রায় ৬০০ মিটার, মূল রানওয়েতে ১,০০০ মিটার। অত্যাধুনিক আলোক ও নেভিগেশন ব্যবস্থার সাহায্যে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
পশ্চিম ও দক্ষিণবঙ্গে কুয়াশার দাপট
পশ্চিমের জেলাগুলিতে কুয়াশা আরও ঘন হচ্ছে। বাঁকুড়া-সহ একাধিক জেলায় সকাল থেকে মেঘলা আকাশ ও উত্তুরে হাওয়ায় কনকনে ঠান্ডা। রবিবার পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমে ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি—কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারেরও নিচে নামতে পারে।


আগামী কয়েক দিনে পশ্চিমের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২–১৫ ডিগ্রি, উপকূলের জেলাগুলিতে ১৫–১৮ ডিগ্রি থাকার সম্ভাবনা।
উত্তরবঙ্গে কোথায় কত ঠান্ডা
উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ঘন কুয়াশা রবিবারের পাশাপাশি সোমবারও থাকতে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারেও কুয়াশার দাপটের সম্ভাবনা।
-
দার্জিলিং ও পার্বত্য এলাকায় সর্বনিম্ন ৬–৮ ডিগ্রি
-
উপরের পাঁচ জেলায় ৯–১৩ ডিগ্রি
-
মালদা ও সংলগ্ন নীচের জেলাগুলিতে ১৫–১৭ ডিগ্রি
বড়দিনের পর কী হবে?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৫ ডিসেম্বরের পর কলকাতা ও আশপাশের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা আরও কিছুটা নামতে পারে। তবে আগামী সাত দিনে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। শীত থাকবে শুষ্কই, কুয়াশাই প্রধান অনুষঙ্গ।








