নজরবন্দি ব্যুরোঃ নিরাপত্তার চাদরে নিজেকে মুড়ে আগামীকাল প্রথম দফা ভোটের জন্য প্রস্তুত রাজ্য। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল শুরু হতে চলেছে রাজ্যের আট দফা ভোটগ্রহনের প্রথম দফা। বাড়ন্ত করোনা পরিস্থিতিতে কোভিড প্রোটকল মেনেই রাজ্যে এবারে হতে চলেছে নির্বাচন প্রক্রিয়া। সকাল হলেই শুরু হয়ে যাবে ৫ জেলার ৩০ কেন্দ্রের প্রার্থীদের ভাগ্যনির্ধারণ। এবারের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে প্রথম থেকেই বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।
আরও পড়ুনঃ বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে উত্তপ্ত সিতাই, চলল তীর-ধনুক নিয়ে হামলা।
তাই ইতিমধ্যেই নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে ওই ৫ জেলাকে। প্রথম দফার নির্বাচনে রাজ্যে বুথে বুথে মোতায়েন করা হয়েছে ৬৫৯ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। ইতিমধ্যে রাজ্যে ৮০০ কোম্পানি বাহিনী এসে পৌঁছে গিয়েছে। তার মধ্যে ৬৫৯ কোম্পানি শনিবারের নির্বাচনে সুরক্ষার কাজে মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও রাজ্য পুলিশও সমান নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। এই দফার ভোটে মোট ১২ হাজার রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মোট ১০ হাজার ২৮৮ টি বুথে ভোট গৃহীত হবে প্রথম দফার ভোট। শনিবার রাজ্যের ৫ জেলা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার মোট ৩০টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে।
পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর, কাঁথি উত্তর, ভগবানপুর, খেজুরি, কাঁথি দক্ষিণ, রামনগর, এগরাতে ভোট হবে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন, কেশিয়াড়ি, খড়্গপুর, গড়বেতা, শালবনি, মেদিনীপুর কেন্দ্রে নির্বাচন হবে এই দফায়। ঝাড়গ্রামের বিনপুর, নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুর, ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রেও ভোট হবে শনিবার। পুরুলিয়া জেলার বাঘমুন্ডি, বলরামপুর, বান্দোয়ান, জয়পুর, পুরুলিয়া, মানবাজার, কাশীপুর, পারা ও রঘুনাথপুর কেন্দ্র এবং বাঁকুড়ার রাইপুর, রানিবাঁধ, ছাতনা ও শালতোড়া কেন্দ্রেও ভোট হবে প্রথম দফাতেই। পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মাওবাদী প্রভাবিত এলাকা বলে চিহ্নিত অঞ্চলগুলিতেও এই দফাতেই নির্বাচন হচ্ছে। সেই কারণে আলাদা করে নিরাপত্তার দিকে নজর দিয়েছে কমিশন। ওই জেলাগুলিতে মোট ১৪৪ কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েন করা হতে পারে বলে খবর।
নিরাপত্তার চাদরে নিজেকে মুড়ে আগামীকাল প্রথম দফা ভোটের জন্য প্রস্তুত রাজ্য। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সঠিক ভাবে চলছে কি না, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তা বজায় রাখতে সঠিক ভাবে কাজ করতে পারছে কি না, তার জন্য ৩ জন বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন। ভোট অবাধভাবে আয়োজনের কোন খামতি রাখছে না কমিশন। এখন অপেক্ষা সকালবেলায় ভোটগ্রহন কেন্দ্র খোলার।



