পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটাল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’-ই থাকবে। তাঁর বক্তব্য, এই নামের সঙ্গে দেশভাগের ইতিহাস, রাজ্যের জন্ম এবং বাঙালির আবেগ গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তাই নাম পরিবর্তনের কোনও প্রশ্নই নেই।
বৃহস্পতিবার নবান্নে এক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুধু রাজ্যের নাম নিয়েই অবস্থান স্পষ্ট করেননি, সরকারি প্রকল্পের নামেও সেই নীতি কার্যকর করার বার্তাও দিয়েছেন। রাজ্য সরকারের আবাসন প্রকল্প ‘বাংলার বাড়ি’-র নতুন নাম ঘোষণা করা হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’। সরকারের দাবি, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজ্যের ঐতিহাসিক পরিচয়কে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় অখণ্ড বাংলার একটি বড় অংশ পূর্ব পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Syama Prasad Mookerjee) পশ্চিমবঙ্গ গঠনের দাবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামের সঙ্গে সেই ঐতিহাসিক অধ্যায় অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান এবং আগামী প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। সেই কারণেই রাজ্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ রাখা হয়েছে। সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র নাম বদল নয়, বরং রাজ্যের ঐতিহাসিক পরিচয়কে সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ।
রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ করার বিষয়ে আগের সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কেও মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সেই প্রস্তাব বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল না এবং এই বিষয়ে সরকার আগ্রহীও নয়। ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় সরকার মতামত চাইলে সরকার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামের সঙ্গে মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য এবং দেশভাগের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। এই নাম বদলে গেলে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মুছে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। সেই কারণে রাজ্যের নাম পরিবর্তনের কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই।



