বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল ইস্যুতে CESC-র বিরুদ্ধে কড়া ব্যাবস্থা রাজ্য সরকারের।

বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল ইস্যুতে CESC-র বিরুদ্ধে কড়া ব্যাবস্থা রাজ্য সরকারের।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল ইস্যুতে CESC-র বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। নজরবন্দির খবরের প্রভাব পড়ল রাজ্য বিদ্যুৎ দফতরে। গতকাল, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পাঠিয়ে কিভাবে ঠকাচ্ছে CESC? এই শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় নজরবন্দি ডট ইন পোর্টাল থেকে। খবর টি মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক মাধ্যমে। চাপ বাড়ে রাজ্য বিদ্যুৎ দফতরের ওপর, জনমত খবর টির পক্ষে থাকায় CESC-র বিরুদ্ধে কড়া ব্যাবস্থা নিল রাজ্য সরকার।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাঁকুড়া জেলার প্রথম স্থানাধিকারী অস্মিতা কে সংবর্ধনা বিজিটিএ-র।

শহর এবং শহরতলীর কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের কথা। আগে যাদের মাসিক ৫০০-১০০০ টাকা মাসিক বিল আসতো। এক ধাক্কাতেই এমাসে তাদের বিল আসছে ৪০০০-১০০০০ মধ্যে। কেন এমন হচ্ছে? CESC লকডাউনের সময়ে মার্চ, এপ্রিল,মে মাসের কোন রিডিং নেয়নি। আগের বছর ঐ মাসের খরচ কিংবা গত ছয় মাসের গড় টাকা বিল পাঠিয়েছে। এখন জুনে এসে চার মাসের(মার্চ, এপ্রিল,মে,জুন) রিডিং একসাথে হিসেবে বিল পাঠাচ্ছে।

কথা অনুযায়ী এই বিলেই গড় বিল হিসেবে দেওয়া টাকা আসল বিলের সাথে হিসেব করে ভজিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তিনমাসে মোট গড় বিল যা দেওয়া হয়েছে, তারথেকে অনেক অনেক কম অংক অ্যাডযাস্ট করা হয়েছে।কোথাও কোথাও কোন অ্যাডযাস্ট করাই হয়নি। অর্থাৎ সে ক্ষেত্রে জুনে যে বিলটা দিচ্ছে সেটা আপনার  চারমাসের আসল ও মোট বিল।আর আগের তিন মাসে দেওয়া গড় বিলটা কোন হিসেবে আসছে না। একই জিনিস হচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে যারা লকডাউনে রিডিং নেওয়া হচ্ছেনা জেনে কোন গড় বিল দেননি। তাদের তিনমাসে বাকি থাকা গড় বিলের সাথে চারমাসের আসল যোগ করে বিল আসছে। অর্থাৎ দুই ক্ষেত্রেই তিনমাসের প্রায় ডবল বিল দিতে হচ্ছে। কোন ক্ষেত্রে চারমাসের মোট খরচকৃত ১০ ইউনিটের ২০৩০ টাকা বিল এসেছে। আবার চারমাসের বিল একসাথে হিসেবের ফলে প্রত্যেক সাধারন গ্ৰাহকের কমবেশি ৩০০-১০০০ টাকা বিল বেশি হয়েছে। এবার ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলা যাক।

অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পাঠিয়ে কিভাবে ঠকাচ্ছে CESC? ধরুন আপনার চারমাসের মোট বিদ্যুৎ খরচ এসেছে ৩৬৮ ইউনিট। এরজন্য আপনাকেই CESC নিয়ম অনুয়ায়ী ৩৬৮ ইউনিটের বিদ্যুৎ শুল্ক ৩৫২৩.৭১ টাকা (প্রথম ২৫ ইউনিট× ৪.৮৯ + পরবর্তী ৩৫ ইউনিট× ৫.৪০ + পরবর্তী ৪০ ইউনিট × ৬.৪১+ পরবর্তী  ৫০ ইউনিট × ৭.১৬ + পরবর্তী ৫০ ইউনিট × ৭.৩৩ + পরবর্তী ১০০ ইউনিট× ৭.৪৪ + পরবর্তী ৬৮ ইউনিট × ৮.৯২=৩৫২৩.৭১) দিতে হবে। কিন্তু  এই ৩৬৮ ইউনিটটাই যদি চারমাসে অল্প অল্প করে আসত,তাহলে আপনাকে সর্বাধিক হয়ত ৬.৪১ কিংবা ৭.১৬ ইউনিট মূল্যটাই দিতে হত। অর্থাৎ প্রায় ২০০-৩০০ ইউনিট ১-৩ টাকা করে সস্তা পারত। এটি লকডাউনের অজুহাতে হিসেবের মার প্যাচকে কাজে লাগিয়ে সুচতুর ভাবে সাধারনের  টাকা হাতানোর পরিকল্পনা ছাড়া অন্য কিছু নয়।

বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল ইস্যুতে CESC-র বিরুদ্ধে কড়া ব্যাবস্থা রাজ্য সরকারের। গতকাল প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার CESC কে অ্যাডভাইসরি পাঠাচ্ছে, যেখানে বলা হচ্ছে আগামী ১ মাসের মধ্যে বিলের ভুল ত্রুটি ঠিক করতে হবে। যতক্ষন না বিল ত্রুটিমুক্ত হয় কোন গ্রাহকের থেকে বিল বাবদ টাকা নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কোন গ্রাহক যদি মনে করেন তার মাত্রাতিরিক্ত বিল এসেছে এবং সে কারনে যদি তিনি বিল না মেটান তাঁর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x