পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হলেও এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদন অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই পরিস্থিতিতে কি সময়মতো ভোট সম্ভব? এ নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল।
রাজ্যে এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ভোটের সময়সূচি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে শীঘ্রই, কিন্তু তার আগেই প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের আবেদন এখনও বিচারাধীন থাকায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। তিনি স্পষ্ট জানান, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করার ক্ষমতা তাঁর নেই।
সিইও বলেন,
“নির্বাচন সংক্রান্ত তারিখ আমি ঘোষণা করি না। আমার কোনও ক্ষমতা নেই। কমিশন আমার সঙ্গে আলোচনাও করবে না। কমিশনের প্রতিনিধিরা চারটি রাজ্য ঘুরে এখানে আসছেন। তাঁরাই সিদ্ধান্ত নেবেন।”
এদিন তিনি বিধানসভায় এসেছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচনে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি পর্যবেক্ষণ করতে। সেই সময়েই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরও এত বিপুল সংখ্যক আবেদন বিচারাধীন থাকা নিয়ে তিনি বলেন,
“৬০ লক্ষের বিষয়টি এসআইআর গাইডলাইনের অংশ ছিল না। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছে। অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ লক্ষ কেসের নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি কী হবে, তা কমিশনই সিদ্ধান্ত নেবে।”
তিনি আরও জানান, এমন পরিস্থিতি আগে দেখা যায়নি। তাঁর কথায়,
“আগেও শেষের দিকে অনেক ফর্ম ৬ জমা পড়ে এবং কিছু কেস থেকে যায়। তবে এত বড় সংখ্যায় অ্যাডজুডিকেশন আগে দেখিনি।”
৬০ লক্ষ নাম বিচারাধীন থাকার পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে সিইও বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বর্তমানে প্রশাসন নির্বাচনের কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—৭ মে-র মধ্যে যদি ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হয়, তবে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে কি না।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পরই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে মনে করা হচ্ছে।



