পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্য বাজেটে বড় ঘোষণা করল সরকার। বহু আলোচিত মহার্ঘ ভাতা বা DA বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জানিয়ে সরকার ঘোষণা করেছে, বর্তমান ১৮ শতাংশ থেকে এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ দেওয়া হবে। এই বর্ধিত ডিএ কার্যকর হবে আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে।
সোমবার বিধানসভায় পেশ হওয়া বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটেই এই ঘোষণা করা হয়। বাজেট বক্তৃতায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য একাধিক সুবিধার পাশাপাশি ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে ডিএ বৈষম্য নিয়ে চলা অসন্তোষ অনেকটাই প্রশমিত হবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পান। নতুন ঘোষণার ফলে সেই হার বেড়ে দাঁড়াবে ৩৮ শতাংশে। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে ডিএ-র ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে ডিএ ফারাক এখন ২২ শতাংশে নেমে আসবে বলে বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাজেটের আগে থেকেই এই বিষয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে সরকারি কর্মীদের জন্য বাজেটে বিশেষ সুখবর থাকতে চলেছে। সেই ইঙ্গিতই বাস্তবে রূপ পেল সোমবারের ঘোষণায়।
এর আগে গত ১৮ মে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের পুরমন্ত্রী Agnimitra Paul সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠনের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সরকারি কর্মচারী, বোর্ড, নিগম, স্থানীয় সংস্থা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনার জন্য নতুন বেতন কমিশন তৈরি করা হবে। একইসঙ্গে ডিএ সংক্রান্ত বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছরের অন্তর্বর্তী বাজেটে তৎকালীন সরকার ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিল। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ১ এপ্রিল থেকে বর্ধিত ডিএ কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন কোনও নির্দেশিকা প্রকাশ হয়নি। ফলে কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
নতুন বাজেটের ঘোষণার পর সরকারি কর্মীদের একাংশের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ডিএ আন্দোলন এবং বকেয়া ভাতা সংক্রান্ত দাবির পর এই সিদ্ধান্তকে বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন অনেকে। যদিও কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য আনাই এখন সরকারের পরবর্তী লক্ষ্য হওয়া উচিত।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত আগামী কয়েক মাসে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।



